ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার, আবাসিক হলের আধিপত্য, কর্মসূচিতে বাধা প্রদান এবং বহিরাগতদের প্রবেশের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত দুই দিনে দেশের অন্তত ১৩টি শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩ আগস্ট) রাত থেকে বুধবার (৫ আগস্ট) পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটা এসব হামলায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক, জকসু নেতাসহ অন্তত ২০০ জন আহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একাধিক ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
সবচেয়ে বড় সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু ছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জকসু ভিপি, জিএস, শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৭০ জন আহত হন। এমনকি জবি মেডিকেল সেন্টার ও পাশের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে চিকিৎসাধীনদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে।
একই সময়ে ঢাকা কলেজে পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত হন অন্তত ২৭ জন। এ ছাড়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সোহরাওয়ার্দী কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ, সরকারি গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউট এবং নারায়ণগঞ্জের তোলারাম কলেজেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।
হামলার এসব ঘটনায় দেশীয় অস্ত্র, রড, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল ব্যবহারের চিত্র দেখা গেছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচির র্যালিকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি গুরুতর আহত হন, অন্যদিকে তিতুমীর কলেজে ছাত্রশক্তির শীর্ষ নেতাদের ওপর হামলার খবর পাওয়া গেছে। নিউমার্কেট এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের পাশাপাশি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রেও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। বেশ কয়েকটি ক্যাম্পাসে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখন পর্যন্ত কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ দেখা যায়নি।সহিংসতার বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “জামায়াত ও শিবিরকে মোকাবিলা করার জন্য
একা ছাত্রদলই যথেষ্ট। দেশীয় অস্ত্র ও মববাজি করে সন্ত্রাসী রাজনীতি করতে চাইলে শিবিরকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।” অপরদিকে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, “ক্যাম্পাসে পুনরায় হল দখল ও গেস্টরুম সংস্কৃতি ফেরাতে বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে হামলা চালানো হচ্ছে। সরকার ব্যর্থ হলে ছাত্রজনতাকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে এদের প্রতিহত করা হবে।”
Leave a comment