ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, তাঁরা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপপরিচালক ফররুখ মাহমুদ সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেশের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টায় জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং তা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত আইন, বিচারিক প্রক্রিয়া ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের পরিপন্থী। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে প্রশাসনের দাবি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় মুক্তবুদ্ধির চর্চা, আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে রাষ্ট্রবিরোধী, আইনবিরোধী বা দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত কোনো কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষক হিসেবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩, প্রথম স্ট্যাটিউটস এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স ও রেগুলেশনের সংশ্লিষ্ট বিধান উল্লেখ করে প্রশাসন জানায়, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরিচ্যুতি, বরখাস্তসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, সংবিধান, আইন, বিচারিক সিদ্ধান্ত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করবে। একই সঙ্গে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
Leave a comment