ভারতে এক নির্মম ও শিউরে ওঠার মতো ঘটনায় দীর্ঘ যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে মাত্র ১১ বছর বয়সী এক নাবালিকা কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছে। বুধবার দেশটির হরিয়ানা রাজ্যের যমুনানগর জেলা সিভিল হাসপাতালে শিশুটি এক কন্যাসন্তান প্রসব করে। সিভিল হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, কোনো জটিল অস্ত্রোপচার ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে (নরমাল ডেলিভারি) নবজাতকের জন্ম হয়েছে। বর্তমানে শিশু মা ও নবজাতক উভয়েই আশঙ্কামুক্ত এবং চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের মে মাসে বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। স্কুলে থাকাকালীন হঠাৎ মারাত্মক পেটের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা জানান যে শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পরবর্তীতে ছছরৌলি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশি তদন্তে এক ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে আসে।
তদন্তে জানা যায়, স্থানীয় একটি ওষুধ কোম্পানির এক গাড়ি চালক ২০২২ সালের নভেম্বর মাস থেকে ফুঁসলিয়ে ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে নাবালিকাকে বারবার নির্যাতন করে আসছিল। প্রাণভয়ে টানা প্রায় তিন বছর এই নারকীয় নির্যাতনের কথা কাউকেই বলতে পারেনি নিষ্পাপ শিশুটি। অভিযোগ পাওয়ার পরই অভিযুক্তকে শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা সংক্রান্ত কঠোর ‘পকসো’ (POCSO) আইনে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
যমুনানগর হাসপাতালের চিফ মেডিকেল অফিসার জানান, মা ও সন্তান উভয়েই বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। নির্যাতিতা শিশুর পরিবার নবজাতকটিকে লালন-পালন করতে অপরাগতা প্রকাশ করায় আইনি প্রক্রিয়ায় শিশুটিকে ‘শিশু কল্যাণ কমিটি’র কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশবিকতার শিকার হয়ে যেখানে একটি শিশুর নিজেরই লালন-পালন ও চিকিৎসার প্রয়োজন, সেখানে এই অবুঝ বয়সে মা হওয়ার ঘটনা সমগ্র ভারতে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
Leave a comment