জিম্বাবুয়েতে প্রায় ২১ কোটি বছর আগের একটি নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের জীবাশ্মের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, এই আবিষ্কার ডাইনোসরের বিবর্তন ও ভৌগোলিক বিস্তার সম্পর্কে গবেষণায় নতুন তথ্য যোগ করবে।
বুধবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন শনাক্ত হওয়া প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘মুসাঙ্গো মাতুসাডোনেনসিস’ (Musankwa matsasadonensis)। ২০১৮ সালে উত্তর জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদের তীরবর্তী এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া একটি কঙ্কালের ভিত্তিতে সম্প্রতি এটিকে নতুন প্রজাতি হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এটি জিম্বাবুয়েতে আবিষ্কৃত পঞ্চম ডাইনোসর প্রজাতি।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ডাইনোসরটি ট্রায়াসিক যুগে, অর্থাৎ প্রায় ২১ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে বিচরণ করত। এর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় সাড়ে চার মিটার এবং ওজন ছিল প্রায় ২২২ কেজি। সে সময়ের বৃহদাকার ডাইনোসরগুলোর তুলনায় এটি আকারে কিছুটা ছোট ছিল।
জিম্বাবুয়ের স্থানীয় শোনা ভাষায় ‘মুসাঙ্গো’ শব্দের অর্থ ‘ঝোপঝাড়ে বসবাসকারী’। সেই অর্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ডাইনোসরটির নামকরণ করা হয়েছে।
জার্নাল অব সিস্টেম্যাটিক প্যালিওন্টোলজি–তে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি জিম্বাবুয়েতে এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে সুসংরক্ষিত ডাইনোসরের কঙ্কালগুলোর একটি। এতে মেরুদণ্ড, পাঁজর এবং হাত-পায়ের অধিকাংশ হাড় অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
গবেষকদের ধারণা, মৃত্যুর সময় ডাইনোসরটির বয়স ছিল প্রায় আট বছর। প্রাণীটি তৃণভোজী অথবা সর্বভুক ছিল এবং নদী বা জলাশয়ের আশপাশের ঝোপঝাড়ের উদ্ভিদ খেয়ে জীবনধারণ করত।
গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার থেকে ধারণা পাওয়া যায়, প্রাচীন দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন বাস্তুতন্ত্র গড়ে উঠেছিল, যেখানে বৈচিত্র্যময় ডাইনোসর প্রজাতির বসবাস ছিল। এর আগে ২০২২ সালে জিম্বাবুয়েতে আফ্রিকার সবচেয়ে প্রাচীন ডাইনোসরের জীবাশ্মও আবিষ্কার করেছিলেন বিজ্ঞানীরা।
Leave a comment