ভারতের বহুল আলোচিত প্রশ্নফাঁস–বিরোধী আন্দোলনে টানা ৩৭ দিনের কর্মসূচির পর কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলো মেনে নেওয়ায় আলোচনায় এসেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। আন্দোলনের সাফল্যের পর সংগঠনটি ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলে রূপ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন এর নেতারা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, আপাতত তাঁর একমাত্র ইচ্ছা বাড়ি ফিরে বিশ্রাম নেওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো। কয়েক মাস ধরে আন্দোলনে ব্যস্ত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সাফল্য তাঁদের জন্য গর্ব ও স্বস্তির।
পূর্ণকালীন রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রাঙ্কা বলেন, ‘ভারতে কোনো কিছু নিয়েই কখনো “না” বলা উচিত নয়।’
তবে সিজেপির আরেক মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, আপাতত তাঁদের লক্ষ্য রাজনীতিতে প্রবেশ নয়; বরং যুবসমাজকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ে একটি শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলা।
তিনি বলেন, দেশে ইতিমধ্যে ৭৫০ থেকে ৮০০টি রাজনৈতিক দল রয়েছে। কিন্তু তরুণদের প্রত্যাশা পূরণে তারা ব্যর্থ হয়েছে। তাই যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, তরুণদের দাবি বাস্তবায়নে তাদের বাধ্য করাই হবে আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।
এদিকে আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি তাঁকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। তিনি চান না, এই পরিস্থিতিকে কোনো ‘দেশবিরোধী শক্তি’ কাজে লাগাক কিংবা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতায় পড়ুক।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বর্তমান সরকারের আমলে জনবিতর্কের মুখে দ্বিতীয় কোনো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদত্যাগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ২০১৮ সালে ‘মি টু’ আন্দোলনের সময় যৌন হয়রানির অভিযোগের মুখে প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর পদত্যাগ করেছিলেন।
গত ২০ জুন দিল্লির যন্তর-মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে সিজেপির আন্দোলন শুরু হয়। সাবেক আম আদমি পার্টির নেতা অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি অল্প সময়ের মধ্যেই বড় ধরনের যুব আন্দোলনে রূপ নেয়। পরে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক আন্দোলনে যোগ দিলে তা আরও গতি পায়।
রাঙ্কা জানান, বিজেপির সভাপতি জে পি নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে চূড়ান্ত বৈঠকের আগেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সম্পন্ন হয়েছিল। বৈঠকে বাকি দুটি দাবি নিয়ে আলোচনা হয় এবং দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়।
আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার। রাঙ্কার দাবি, সমঝোতা অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী ও আয়োজকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে এবং ভবিষ্যতে তাঁদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা করা হবে না।
সরকার এতদিন পর কেন আলোচনায় বসেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে রাঙ্কা বলেন, এর উত্তর সরকারের কাছেই রয়েছে। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের এক মাসের বেশি সময় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আগেই সরকারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল।
সূত্র: এনডিটিভি
Leave a comment