প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে মেক্সিকান ক্লাব তিগ্রেস ছেড়ে নিজ দেশ আর্জেন্টিনায় ফিরেছেন তারকা ফরোয়ার্ড অ্যাঞ্জেল কোরেয়া। রিভার প্লেটে তাঁর যোগদান প্রায় চূড়ান্ত বলে মনে করা হলেও শেষ মুহূর্তে এ অভিযোগ সামনে আসায় ট্রান্সফারটি নতুন অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
আর্জেন্টিনার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রিভার প্লেটে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কোরেয়া ইতিমধ্যে আর্জেন্টিনায় পৌঁছে মেডিকেল ও শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। চুক্তিপত্রে সই করারও কথা ছিল তাঁর। তবে ঠিক সেই সময় খেলোয়াড়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানায়, নিজের ও পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার কারণেই তিনি মেক্সিকো ছেড়ে দেশে ফিরে এসেছেন।
ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে, কারণ মেক্সিকো ছাড়ার আগে তিগ্রেসের অনুশীলন শেষে কোরেয়া স্বাভাবিকভাবেই সতীর্থ, কোচিং স্টাফ ও ক্লাব কর্মকর্তাদের বিদায় জানিয়েছিলেন। তখন তিনি কোনো ধরনের হুমকির বিষয় উল্লেখ করেননি। এমনকি ক্লাব কর্তৃপক্ষকেও এ বিষয়ে কিছু জানাননি। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য তিগ্রেসই তাঁকে আর্জেন্টিনায় যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী মেডিকেল পরীক্ষা শেষ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সই করার পর রিভার প্লেট তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের খেলোয়াড় হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল। বুধবার রাত পর্যন্ত আর্জেন্টিনার একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, চুক্তি প্রায় সম্পন্ন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ট্রান্সফারের জন্য তিগ্রেসকে ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার দিতে রাজি ছিল রিভার প্লেট।
তবে বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ট্রান্সফারটি নতুন জটিলতায় পড়ে। আর্জেন্টিনার কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, কোরেয়ার পক্ষে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছে রিভার প্লেট। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ফিফা ও ক্রীড়া সালিশি আদালতে (সিএএস) আবেদন করে তাঁকে ‘মুক্ত খেলোয়াড়’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে। সেটি সম্ভব হলে তিগ্রেসকে কোনো ট্রান্সফার ফি পরিশোধ করতে হবে না।
অন্যদিকে মেক্সিকান সংবাদমাধ্যম মেদিওতিয়েম্পোকে তিগ্রেসের একটি সূত্র জানিয়েছে, তাদের দৃষ্টিতে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগটি রিভার প্লেটের কৌশলের অংশ। ক্লাবটির ধারণা, নিজেদের শর্তে ট্রান্সফার সম্পন্নের চাপ তৈরি করতেই বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে।
এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিগ্রেসের কর্মকর্তারা। তাঁদের ভাষ্য, চলমান আলোচনার মধ্যে এমন অভিযোগ উত্থাপন অনাকাঙ্ক্ষিত। ক্লাবটি তাদের আর্থিক অবস্থান থেকে সরে আসতে রাজি নয়। ২০৩০ সাল পর্যন্ত কোরেয়ার সঙ্গে বৈধ চুক্তি রয়েছে উল্লেখ করে তারা জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত পুরো ট্রান্সফার ফি আদায়েই অনড় থাকবে তিগ্রেস। প্রয়োজনে নিজেদের অবস্থান রক্ষায় সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও প্রস্তুতি রয়েছে তাদের।
ঘটনাটিকে অনেকে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড অ্যালান পুলিদোর পুরোনো বিরোধের সঙ্গে তুলনা করছেন। সে সময় পুলিদো দাবি করেছিলেন, তিগ্রেস তাঁর সামনে যে চুক্তিপত্র উপস্থাপন করেছিল, তাতে তাঁর স্বাক্ষর ছিল না। পরে তিনি গ্রিসের ক্লাব লেভাদিয়াকোসে যোগ দেন। তদন্ত চলাকালে ফিফা তাঁকে সাময়িকভাবে গ্রিসে খেলার অনুমতি দিলেও কয়েক বছর পর ক্রীড়া সালিশি আদালত তিগ্রেসের পক্ষেই রায় দেন। শেষ পর্যন্ত গ্রিক ক্লাবটিকে তিগ্রেসকে ট্রান্সফার ফি পরিশোধ করতে হয়েছিল।
কোরেয়ার ঘটনাও শেষ পর্যন্ত একই পরিণতির দিকে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে তিনি আর্জেন্টিনায় অবস্থান করলেও তাঁর ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। তিগ্রেস, রিভার প্লেট এবং খেলোয়াড়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে সমঝোতা না হলে বিরোধটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ক্রীড়া সালিশি আদালতেই হতে পারে।
Leave a comment