ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক জন্তর মন্তরে ব্যঙ্গাত্মক সামাজিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো শহরজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার স্বার্থে ডিএমআরসি রাজধানীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অন্তত ১৬টি মেট্রো স্টেশন সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (২২ জুলাই) সকাল থেকেই রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, মান্ডি হাউস, আইটিও, খান মার্কেট, জনপথ, দিল্লি গেট ও সুপ্রিম কোর্টসহ ১৬টি ব্যস্ততম স্টেশন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি)। তবে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে রাজীব চক, মান্ডি হাউস ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনে ট্রেন পরিবর্তনের (ইন্টারচেঞ্জ) সুবিধা চালু রাখা হয়েছে।
চিকিৎসা প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে সিজেপি-র সংসদ অভিযান কর্মসূচি থেকে এ উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। সোমবার ওই কর্মসূচিতে পুলিশি দমন-পীড়নের পর আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ শীর্ষ কংগ্রেস নেতাদের আটক করে দিল্লি পুলিশ।
কয়েক ঘণ্টা আটক থাকার পর মুক্তি পেয়ে রাহুল গান্ধী সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি পেশ করেন। তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছেন। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, তরুণদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং সংসদে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার দাবি উত্থাপন করেন তিনি। রাজধানী দিল্লিতে এ আন্দোলনের জেরে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম জোরদার করা হয়েছে।
Leave a comment