নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বিয়ের মাত্র একদিন পর এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদিকে ভাগ্নের মৃত্যুর খবর শুনে ঘটনাস্থলে এসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তার মামা। হৃদয়বিদারক এ জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উপজেলার ৮ নম্বর ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের মুনাকাশা কাঁকড়া চৌপতি জামে মসজিদ থেকে আব্দুল মালেক (২৫) নামে ওই যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ডিমলা থানা পুলিশ।
নিহত আব্দুল মালেক মুনাকাশা গ্রামের নুরুল হকের ছেলে। তিনি স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন এবং প্রয়োজনে ইমামতির দায়িত্বও পালন করতেন। শোকে মারা যাওয়া তার মামা আহিদুল ইসলাম (৪০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার আব্দুল মালেকের বিয়ে হয়। বুধবার এশার নামাজের পর তিনি মসজিদে অবস্থান করছিলেন। গভীর রাতে মুসল্লিরা মসজিদের ভেতরে ছাদের কাঠামোর সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
ভাগ্নের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন মামা আহিদুল ইসলাম। মরদেহ দেখে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. একরামুল হক চৌধুরী বলেন, বিয়ের একদিন পর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এবং সেই শোক সহ্য করতে না পেরে মামার মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
Leave a comment