পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় এক কলেজছাত্রের সঙ্গে টিকটকার স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের জেরে সজল কুমার দেউরী (৩০) নামের এক গার্মেন্টস কর্মী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, ঢাকায় অবস্থানরত সজল তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার একপর্যায়ে উসকানি পেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেন। নিহত সজল উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাপিটানিয়া গ্রামের (৯ নম্বর ওয়ার্ড) স্বপন কুমার দেউরীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাটিং মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই দম্পতির পাঁচ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
নিহতের ছোট ভাই তুহিন দেউরীর অভিযোগ, তাঁর ভাবি রঞ্জিতা হালদারের সঙ্গে একই গ্রামের কলেজপড়ুয়া শোভন বেপারীর দীর্ঘদিন ধরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক চলছিল। রঞ্জিতা সারাক্ষণ টিকটক এবং মোবাইল ফোনে শোভনের সাথে কথা বলায় মগ্ন থাকতেন। এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই কলহ হতো। ঘটনার দিন সজল ভিডিও কলে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় এই বিষয়ে জানতে চান এবং ক্ষোভে আত্মহত্যার কথা বলেন। তখন রঞ্জিতা তাঁকে উল্টো উসকানিমূলক কথা বলেন। এরপরই ভিডিও কল সচল থাকা অবস্থায় সজল আত্মহত্যা করেন। স্থানীয় বাসিন্দা দীপেন চৌকিদারও জানান, এলাকায় ওই যুবকের সাথে রঞ্জিতার সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে বেশ গুঞ্জন ছিল এবং এ নিয়ে পরিবারটিতে অশান্তি লেগেই থাকত। এরই জেরে গত মঙ্গলবার সজল স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখে আত্মহননের পথ বেছে নেন।
বলদিয়া ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনোজ ঢালী জানান, এলাকায় রঞ্জিতা হালদার ও শোভন বেপারীর সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে সজল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শোভন বেপারী ও রঞ্জিতা হালদার এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। এদিকে অভিযুক্ত শোভনের বাবা ভূপাল বেপারী বলেন, সজলের মৃত্যুর পরেই তিনি তাঁর ছেলের সাথে রঞ্জিতার সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন এবং ছেলেকে শাসন করার পর সে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে।
এই বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a comment