এমরান হোসেন, জামালপুর
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় আট মাস বয়সী এক শিশুর মরদেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির মা শ্রাবন্তীকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার সকালে উপজেলার ভাবকী গোপালবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার শ্রাবন্তী জামালপুর পৌর শহরের কম্পপুর মাঠপাড়া এলাকার মুন্তাজ আলীর মেয়ে। তিনি ভাবকী গোপালবাড়ি এলাকার হুমায়ুন আহমেদের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হুমায়ুন আহমেদ ও শ্রাবন্তী দম্পতির একমাত্র সন্তান শাওন শনিবার রাতে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিল। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঘুম থেকে উঠে হুমায়ুন আহমেদ দেখেন, ঘরের সামনের ও পেছনের দুটি দরজাই খোলা এবং স্ত্রী ও সন্তান কেউই ঘরে নেই। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁদের খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে বাড়ির পাশের বেপারীপাড়া এলাকায় শ্রাবন্তীকে দেখতে পান স্বজনেরা। পরে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ভাসমান অবস্থায় শিশু শাওনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজনেরা শিশুকে হত্যার অভিযোগ তুলে শ্রাবন্তীকে একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
শ্রাবন্তীর দাবি, রাত সাড়ে ৩টার দিকে দরজায় টোকা শুনে তিনি দরজা খুললে এক মুখোশধারী ব্যক্তি তাঁর মুখে রুমাল চেপে ধরেন। এরপর তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। পরে জ্ঞান ফিরলে নিজেকে ভাবকী বাজার এলাকায় দেখতে পান। কে বা কারা তাঁর সন্তানকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
স্বামী হুমায়ুন আহমেদ বলেন, রাতে ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে একসঙ্গে ঘুমিয়েছিলেন। সকালে উঠে ছেলে ও স্ত্রীকে ঘরে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তাঁর অভিযোগ, এর আগেও শ্রাবন্তী কয়েকবার বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। তিনি স্ত্রীকেই সন্তানের মৃত্যুর জন্য দায়ী করেন।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত নারীকে উদ্ধার করে গ্রেপ্তার করে। শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
Leave a comment