ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট
ভারত থেকে সরকারিভাবে আমদানিকৃত ৫০ হাজার মেট্রিক টন চালের চুক্তির আওতায় সর্বশেষ চালান মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছেছে। এ চালান পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানির পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার দিবাগত রাতে ভিয়েতনামের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি পুথান-৩৬ ৫ হাজার ৭৩৬ দশমিক ৫০০ মেট্রিক টন চাল নিয়ে মোংলা বন্দরের জেটিতে নোঙর করে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির চুক্তি হয়েছিল। গত ২০ জানুয়ারি প্রথম চালান মোংলা বন্দরে পৌঁছানোর পর পর্যায়ক্রমে ১০টি জাহাজে পুরো চাল আমদানি সম্পন্ন হয়েছে। খালাস হওয়া চাল দেশের বিভিন্ন খাদ্যগুদামে পাঠানো হয়েছে।
বন্দর এলাকার সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুস সোবাহান বলেন, আমদানিকৃত চালের গুণগত মান নিশ্চিত করতে শনিবার সকাল থেকে ভৌত পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার পর রোববার বিকেল থেকে জাহাজ থেকে চাল খালাসের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি জানান, চুক্তি অনুযায়ী মোট আমদানিকৃত চালের ৪০ শতাংশ মোংলা বন্দর এবং বাকি ৬০ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাসের পরিকল্পনা ছিল। সর্বশেষ চালান পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে মোংলা বন্দরের অংশের কার্যক্রমও শেষ হচ্ছে।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খালাস করা চাল দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খাদ্যগুদামে পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় পরিবহনব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
খালাস ও পরিবহন কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, গত কয়েক মাসে প্রতিকূল আবহাওয়া ও কিছু কারিগরি জটিলতা থাকলেও মোংলা বন্দরের সক্ষমতার কারণে চাল খালাসে উল্লেখযোগ্য কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও খাদ্য বিভাগের সমন্বয়ে পুরো কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী চালের গুণগত মান নিশ্চিত করতে নমুনা সংগ্রহ থেকে শুরু করে খালাস পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে খালাসের পরপরই চাল নদীপথে দেশের বিভিন্ন খাদ্যগুদামে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় দেশের খাদ্যশস্যের মজুত আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখতে এই আমদানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ চাল সফলভাবে খালাসের মাধ্যমে মোংলা বন্দর আবারও তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।
Leave a comment