ওমর ফারুক কক্সবাজার
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের ডুলাহাজারা বন বিট কর্মকর্তা শাহরিয়ার আমিনের উপস্থিতিতে এক পেশাদার সাংবাদিককে নির্মমভাবে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৮ জুন) দুপুর আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ এলাকায় বন বিভাগের একটি উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম আজাদ জাতীয় দৈনিক ‘জবাবদিহি’ পত্রিকার কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জে বন বিভাগের উচ্ছেদ কার্যক্রমের তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে যান সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম আজাদ। এ সময় ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) এবং বিট কর্মকর্তা শাহরিয়ার আমিনের উপস্থিতিতেই তাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত মঞ্জুর হেডম্যান এবং তার সহযোগী আব্দুল আজিজ, আলী হোসেন, কামাল উদ্দিন, সোনা মিয়া ও মনির উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ওই সাংবাদিকের ওপর চড়াও হন। তারা সাংবাদিককে কর্তব্য পালনে বাধা দেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও হেনস্তা করেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকায় কর্মরত থাকার সুবাদে বিট কর্মকর্তা শাহরিয়ার আমিন স্থানীয়ভাবে নিজস্ব প্রভাব বলয় তৈরি করেছেন। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফুলছড়ি ও ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের সংরক্ষিত বনের জমি দখল করে অসংখ্য পাকা দালান ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম আজাদ দীর্ঘদিন ধরে বন ভূমির এই অবৈধ দখলদারিত্ব এবং এর পেছনে থাকা সিন্ডিকেটের বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে আসছিলেন। এই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জের ধরেই বিট কর্মকর্তা শাহরিয়ার আমিন পরিকল্পিতভাবে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে এই হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মুহাম্মদ কামরুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি। অন্যদিকে, কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন সংরক্ষক মারুফ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত বিট কর্মকর্তা শাহরিয়ার আমিনের দ্রুত অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং সচেতন নাগরিক সমাজ।
Leave a comment