মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি নীতিগত যুদ্ধবিরতি সমঝোতায় সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও লেবানন। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সব ধরনের হামলা বন্ধ করাসহ বেশ কয়েকটি কঠোর শর্তের ওপর ভিত্তি করে এই দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা তৈরি হয়েছে। আগামী ২২ জুন একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ওয়াশিংটনে পুনরায় বৈঠকে বসবে দুই দেশ। বুধবার (৩ জুন) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই ঐতিহাসিক অগ্রগতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েল ও লেবাননের ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দুই দেশের সার্বভৌম সরকারই নির্ধারণ করবে। কোনো তৃতীয় পক্ষ বা সশস্ত্র শক্তি যেন লেবাননের ভবিষ্যৎকে জিম্মি করতে না পারে, তা সব পক্ষ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। খসড়া চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, লিতানি নদী থেকে ইসরায়েল সীমান্ত পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের যে অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, সেখান থেকে হিজবুল্লাহর সব সদস্য ও সামরিক অবকাঠামো সরিয়ে নিতে হবে। এছাড়া ওই অঞ্চলে লেবাননের সেনাবাহিনীর একক নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি ‘পাইলট জোন’ গঠনে সরাসরি সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ওয়াশিংটন হিজবুল্লাহর প্রভাবমুক্ত একটি কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশা করছে।
তবে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত লেবানন-ইসরায়েল আলোচনার এই সিদ্ধান্ত হিজবুল্লাহ মেনে নিতে বাধ্য নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সংগঠনটির রাজনৈতিক পরিষদের প্রভাবশালী সদস্য মাহমুদ কামাতি। ফলে এই যুদ্ধবিরতির স্থায়ীত্ব নিয়ে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে।
এর আগে গত সোমবার একটি আংশিক ও সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, যেখানে শর্ত ছিল হিজবুল্লাহ আক্রমণ না করলে ইসরায়েল বৈরুতে বড় ধরনের বিমান হামলা থেকে বিরত থাকবে। তবে বুধবারও দক্ষিণ লেবাননের চেহৌর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় দুই প্যারামেডিকসহ অন্তত নয়জন নিহত হন। এই হামলার জবাবে হিজবুল্লাহও উত্তর ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে রকেট, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীকে ইসরায়েল বিমান হামলায় হত্যা করার পর মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত চরম রূপ ধারণ করে। এরপর লেবাননজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে অন্তত ৩ হাজার ৫১৬ জন নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এক কোটিরও বেশি মানুষ। অন্যদিকে, ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী এই যুদ্ধে তাদের ২৬ জন সেনা এবং ৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
Leave a comment