আইনি লড়াইয়ে বড় স্বস্তি পেয়ে অবশেষে দীর্ঘ কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। বুধবার (৩ জুন) রাত ১০টা ৮ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি লাভ করেন এবং মধ্যরাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের বাসভবন ‘চুনকা কুটিরে’ পৌঁছান। কারামুক্তির পর তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
কারাগারের জেলার শিরিন আক্তার এবং কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি) জান্নাত উল ফরহাদ জানান, হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ আপিল বিভাগেও বহাল থাকায় আইভীর মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা ছিল না। নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশনা ও জেলা কারাগারের নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে অন্য কোনো আটকাদেশ না থাকায় তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৯ মে দেওভোগের বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছিল।
আইভীর প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন এই মামলাগুলোকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করে বলেন, “আমার মক্কেল এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি ছিলেন। আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব এবং ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরবর্তী নির্বাচনে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।”
আদালত সূত্রে জানা গেছে, চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘটনার পর আইভীর বিরুদ্ধে হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ মোট ১২টি মামলা দায়ের করা হয়। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ও হাইকোর্টের বিভিন্ন বেঞ্চে দীর্ঘ শুনানি শেষে সবকটি মামলায় তাঁর জামিন বহাল রাখা হয়। এর আগে, বারবার নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে হয়রানি করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন আইভী।
আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া উল্লেখযোগ্য মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে ফতুল্লা থানায় করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা ও পারভেজ হত্যা মামলা। এছাড়া সদর মডেল থানায় হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়। এসব মামলায় বিভিন্ন সময়ে হাইকোর্ট জামিন দিলেও রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার আদালতে স্থগিতাদেশ চেয়েছিল। তবে সর্বশেষ শুনানিতে আপিল বিভাগ সবগুলো স্থগিতাদেশ খারিজ করে হাইকোর্টের জামিন বহাল রাখেন।
ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে নাসিক গঠনের পর তিনি দেশের প্রথম নারী মেয়র নির্বাচিত হন এবং টানা তিন মেয়াদে মেয়রের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন। তাঁর এই কারামুক্তি এবং আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে যাচ্ছে।
Leave a comment