মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চললেও সেই পথে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী কে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে নেতানিয়াহুর কঠোর অবস্থানই শান্তি আলোচনাকে জটিল করে তুলছে।
ইসরায়েল বরাবরই দাবি করে আসছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধু ইসরায়েলের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এ কারণে তেহরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা চুক্তি হলে তা ইরানকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তেল আবিব।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অংশ মনে করে, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তবে নেতানিয়াহু বারবার কঠোর নিষেধাজ্ঞা, সামরিক চাপ এবং কঠিন অবস্থানের পক্ষে মত দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থানও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নিরাপত্তা ইস্যু অত্যন্ত সংবেদনশীল। ফলে ইরানের প্রতি কঠোর অবস্থান ধরে রাখা তার রাজনৈতিক সমর্থন বজায় রাখতেও সহায়ক।
এদিকে ইরানও অভিযোগ করে আসছে যে, ইসরায়েল শান্তি উদ্যোগকে ব্যাহত করছে এবং অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ সংকুচিত করছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা বারবার নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু ওয়াশিংটন ও তেহরানের সমঝোতা যথেষ্ট নয়; বরং ইসরায়েলসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ ও রাজনৈতিক স্বার্থও বিবেচনায় নিতে হবে। তবেই একটি টেকসই ও কার্যকর শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
Leave a comment