মো. আসাদুজ্জামান, ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক পীরডাঙ্গী কবরস্থানে দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার বর্জ্য ফেলার অভিযোগ উঠেছে। হযরত পীর সিরাজউদ্দিন আউলিয়ার স্মৃতিবিজড়িত এ কবরস্থানকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ময়লা-আবর্জনা ও পশুর বর্জ্য কবরস্থানসংলগ্ন স্থানে ফেলা হচ্ছে। এতে পুরো এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এবং স্বজনদের কবর জিয়ারত করতে আসা মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।
কবরস্থানটির উত্তর পাশে পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ এবং দক্ষিণ পাশে সবুজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। শিক্ষার্থী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কবরস্থানটির বেশির ভাগ অংশই অরক্ষিত। পর্যাপ্ত সীমানা প্রাচীর ও আলোর ব্যবস্থা না থাকায় রাতে সেখানে মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া অতীতে কঙ্কাল চুরির ঘটনার কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে পীরডাঙ্গী কবরস্থান থেকে এক রাতে প্রায় ১৯টি কবর খুঁড়ে কঙ্কাল চুরির ঘটনা ঘটে। পরের বছর উপজেলার আরেকটি কবরস্থান থেকেও একাধিক কঙ্কাল চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের আগ থেকেই সেখানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছিল। বর্তমানে কবরের ওপর যেন কোনো বর্জ্য না ফেলা হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত আলোর ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে ইউএনও বলেন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ রয়েছে। প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হলে সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত কবরস্থানে বর্জ্য ফেলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি কবরস্থানের চারপাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও নিরাপত্তা জোরদারেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
Leave a comment