বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় বাংলাদেশি জেলেদের জালে একটি পানির নিচে চলাচলকারী নজরদারি ড্রোন (আন্ডারওয়াটার সার্ভেইলেন্স ড্রোন) আটকা পড়েছে। লাল রঙের দীর্ঘাকৃতির ডিভাইসটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে সামরিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি সমুদ্রের তলদেশে নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং সাবমেরিন শনাক্তকরণে ব্যবহৃত স্বয়ংক্রিয় ড্রোন বা আনম্যানড আন্ডারওয়াটার ভেহিকল (ইউইউভি)। বিশ্বের বিভিন্ন শক্তিশালী নৌবাহিনী সমুদ্রসীমা পর্যবেক্ষণ, পানির নিচের গতিবিধি শনাক্ত এবং অ্যান্টি-সাবমেরিন অপারেশনে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে।
তবে ড্রোনটির উৎপত্তি বা মালিকানা সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি। কয়েকজন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ধারণা করছেন, এটি যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান BAE Systems–এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান Riptide Autonomous Solutions–এর তৈরি কোনো আন্ডারওয়াটার সিস্টেমের সঙ্গে মিল থাকতে পারে। যদিও এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি ডিভাইসটি সত্যিই সামরিক বা আধা-সামরিক নজরদারি ব্যবস্থার অংশ হয়ে থাকে, তাহলে তা বঙ্গোপসাগরে বিদেশি নৌবাহিনী বা নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর পানির নিচের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে সাবমেরিন চলাচল, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা এবং কৌশলগত অবকাঠামো পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। ডিভাইসটির প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উৎস শনাক্ত হওয়ার পরই এর প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং মালিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
Leave a comment