এমরান হোসেন (জামালপুর প্রতিনিধি)
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সৌদি প্রবাসী সোহাগ মিয়ার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক সন্তানের জননীকে (২৫) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের পর ভুক্তভোগী নারীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান তিনি। পালিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি, পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে।
গত শনিবার (২৩ মে) রাত ৮টার দিকে সরিষাবাড়ী উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সোহাগ মিয়া উপজেলার চর বাঙ্গালী গ্রামের শফিক মিয়ার ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীরককপপ প্রথম স্বামীর সংসারে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। ৪ বছর আগে প্রথম স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ হওয়ার পর প্রতিবেশী সোহাগ মিয়ার সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় একপর্যায়ে সোহাগকে সৌদি আরব পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
তবে প্রবাসে থেকেও ওই নারীর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত সোহাগ। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সে মিনাকে ঢাকায় একটি বাসা ভাড়াও করে দেয়। দীর্ঘ চার বছর প্রবাসে থাকাকালীন ইমু ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে মানসিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করত।
গত ১৫ মে সোহাগ মিয়া দেশে ফিরে আসে। বাড়ি ফেরার ৯ দিন পর সে ভুক্তভোগী নারীকে ঢাকার বাসা ছেড়ে সরিষাবাড়ীতে চলে আসতে বলে। ওই নারী এলাকায় ফিরে এলে কৃষ্ণপুর গ্রামে তার উকিল নানার বাড়িতে গিয়ে স্বামীর পরিচয়ে শারীরিক সম্পর্ক না করলে সোহাগ তাকে বিয়ে করবে না বলে শর্ত দেয়। নিরুপায় হয়ে নিজের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে রাজি হন ওই নারী। পরে গত ২৩ মে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কৃষ্ণপুর গ্রামের ওই আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মিনাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে সোহাগ।
বিষয়টি ভুক্তভোগী নারীর উকিল নানার সন্দেহ হলে তিনি তাৎক্ষণিক তার পরিবারকে খবর দেন। রাত ৯টার দিকে ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছালে বেগতিক দেখে সোহাগ ওই নারীর ব্যবহৃত ‘ওপ্পো’ অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়।
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তে নেমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত যুবক সোহাগ মিয়াকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে।
Leave a comment