রাজধানীর দনিয়া এলাকার ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবিকুন নাহার নামের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, পরীক্ষার হল থেকে ডেকে নিয়ে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটন ওই ছাত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মানসিক নির্যাতন করেন, যার জেরে লোকলজ্জার ভয়ে ওই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্লাস বর্জন করে আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল থেকে রাজপথে বিক্ষোভ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্কুল সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ১১টার দিকে ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েক শ শিক্ষার্থী হঠাৎ করেই ক্লাস বর্জন করে স্কুলের মূল প্রবেশপথে জড়ো হন। তারা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ এবং চেয়ারম্যানের শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষুব্ধ সহপাঠী ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গতকাল বুধবার (২০ মে) পরীক্ষা চলাকালীন কক্ষ থেকে দশম শ্রেণির ছাত্রী সাবিকুন নাহারকে ডেকে নেন স্কুলের চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটন। সে সময় কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তাকে মানসিকভাবে হেনস্তা ও অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। অপমানিত বোধ করায় ওই ছাত্রী আর ক্লাসে না ফিরে সরাসরি বাসায় চলে যায়। পরবর্তীতে চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে শিক্ষার্থীর মাকে ফোনে কল করে স্কুলে আসতে বলা হয়। এই খবর পেয়ে মা ক্ষুব্ধ হয়ে মেয়েকে বকাঝকা করলে বিকেলে দনিয়ার নাসির উদ্দীন সড়কের নিজ বাসায় গায় ফাঁস দেয় সাবিকুন নাহার।
নিহত শিক্ষার্থীর এক সহপাঠী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সাবিকুন পরীক্ষায় কোনো নকল করেনি, কারও খাতা দেখে লিখছিলও না। সম্পূর্ণ অকারণে চেয়ারম্যান স্যার তাকে ডেকে নিয়ে এভাবে অপমান করেছেন। একটা কিশোরী মেয়েকে সবার সামনে এভাবে লজ্জিত করলে তার আর বেঁচে থাকার মানসিকতা থাকে না।” বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আরেক ছাত্র গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, “চেয়ারম্যান লিটন প্রায়শই ছাত্রীদের কারণে-অকারণে ডেকে নিয়ে বকাঝকা করেন এবং নিয়ম ভাঙার অজুহাতে টিসি (ছাড়পত্র) দিয়ে দেওয়ার ভয় দেখান। আমরা এই অত্যাচার আর মানব না, উনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মঈদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, “সহপাঠীর এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ক্ষুব্ধ ও বিপর্যস্ত। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের সঙ্গে কথা বলছি এবং বোঝানোর চেষ্টা করছি।”
নিহত সাবিকুন নাহারের গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলায়। তার বাবার নাম খলিলুর রহমান। তারা দীর্ঘদিন ধরে দনিয়ার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেন, “গতকাল ওই শিক্ষার্থী নিজ বাসায় আত্মহত্যা করে। প্রাথমিকভাবে পরিবারের পক্ষ থেকে মায়ের ওপর অভিমান করে ফাঁসের কথা বলায় তাদের লিখিত অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই শুধু সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছিল। তবে আজকে স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের বিষয়টি আমরা জেনেছি। নিহত ছাত্রীর পরিবার কিংবা সহপাঠীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Leave a comment