পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথম কার্যদিবসেই কঠোর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করলেন শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার (১১ মে) নবান্নে আয়োজিত প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে তাঁর সরকার।
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন যে, বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজে, সৃষ্ট দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসন করা হবে। তিনি বলেন, “রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গেছে। সীমান্ত রক্ষার স্বার্থে বিএসএফ-এর প্রয়োজনীয় জমি আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।”
তিনি অভিযোগ করেন যে, পূর্ববর্তী সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে জমি হস্তান্তরে বাধা দিয়েছিল। এই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
রাজ্যবাসীকে কেন্দ্রীয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের আওতায় আনতে নতুন সরকার একগুচ্ছ ঘোষণা দিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী জানান, এখন থেকে পশ্চিমবঙ্গে ‘আয়ুষ্মান ভারত’, ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’, ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ এবং ‘প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা ৩.০’ কার্যকর হবে। তিনি তথ্য প্রকাশ করেন যে, আগের সরকার উজ্জ্বলা যোজনার প্রায় ৮ লাখ ৬৫ হাজার আবেদন কেন্দ্রে পাঠায়নি, যা বর্তমান সরকার দ্রুত সম্পন্ন করবে।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর প্রথম দিনের সংবাদ সম্মেলনে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন:
• চাকরিতে সুযোগ: সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৫ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
• আইনি কাঠামো: রাজ্যে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
• জনগণনা: দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জনগণনার কাজ দ্রুত শুরু করার বিষয়েও মন্ত্রিসভা সম্মত হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর সরকারের দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, “আমাদের সরকার ‘আমিত্বে’ নয়, বরং ‘আমরা’ নীতিতে চলবে। জনগণের আস্থা রক্ষা করাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য।” নবান্নে পৌঁছানোর পর পুলিশের ‘গার্ড অব অনার’ গ্রহণ এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে দীর্ঘ বৈঠকের মধ্য দিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর এই নতুন যাত্রা শুরু হলো।
Leave a comment