দেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়েছে হাম। এখন পর্যন্ত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৪১৫ জন, আর সংক্রমণ পৌঁছে গেছে দেশের ৫৬ জেলায়। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় হঠাৎ এত শিশুমৃত্যুর পেছনে কোনো অবহেলা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা মহামারির সময় টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন, গত পাঁচ বছর জাতীয় হাম ক্যাম্পেইন না হওয়া, স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলনে টিকা কার্যক্রম বন্ধ থাকা এবং ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন স্থগিত থাকার কারণেই দেশে এই ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ইপিআই সূত্র জানায়, দেশে এমআর টিকার ঘাটতি ছিল না। এমনকি চলমান ক্যাম্পেইনের টিকাও গত বছরের সেপ্টেম্বরে দেশে পৌঁছায়। কিন্তু টাইফয়েড টিকা কার্যক্রম, জাতীয় নির্বাচন এবং স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলনের কারণে বারবার পিছিয়ে যায় হাম প্রতিরোধ ক্যাম্পেইন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে হাম টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের কভারেজ কমে যাওয়ায় লাখ লাখ শিশু ঝুঁকিতে পড়ে। এছাড়া গত বছরের ডিসেম্বর মাসে স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলনের সময় অস্থায়ী টিকাকেন্দ্রগুলোতে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বড় ধরনের টিকাদান গ্যাপ তৈরি হয়।
জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিশেষজ্ঞ ড. তাজুল ইসলাম বারী বলেন, “২০২১ সালের পর দেশে আর কোনো জাতীয় হাম ক্যাম্পেইন হয়নি। ফলে দীর্ঘদিনের গ্যাপ তৈরি হয়। পরে টিকা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় খুব অল্প সময়েই আউটব্রেক ছড়িয়ে পড়ে।”
এদিকে এক বছর ধরে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে গেছে বলে জানিয়েছেন রোগতত্ত্ববিদরা। তাদের মতে, অপুষ্টি ও নিউমোনিয়ার কারণে হামে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে গবেষণার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইইডিসিআরকে। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
Leave a comment