যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে আগে থেকে কোনো ধারণা ছিল না ইসরাইলের—এমন তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে একটি ইসরাইলি সূত্রের বরাতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে এমন একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছেন, যা যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে সহায়তা করতে পারে। তবে এ বিষয়ে ইসরাইল আগে থেকে অবগত ছিল না এবং তারা সম্ভাব্য সংঘাত বৃদ্ধির প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে সূত্রটি দাবি করেছে।
পাকিস্তানের একটি সূত্র এবং দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের কাছাকাছি রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে শুরু করা সামরিক অভিযান স্থগিত করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস মনে করছে, এর ফলে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়া আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এখনো কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি, তবে সূত্রগুলো বলছে—সংঘাত শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো দুই পক্ষ চুক্তির সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।
শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। প্রাথমিক সমঝোতা হলে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির জন্য ৩০ দিনের বিস্তারিত আলোচনা শুরু হতে পারে।
অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহার এবং জব্দ অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয় বিবেচনা করতে পারে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধও তুলে নেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে এসব শর্ত এখনো আলোচনাধীন এবং চূড়ান্ত চুক্তির ওপর নির্ভরশীল। ফলে পরিস্থিতি অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।
হোয়াইট হাউসের ধারণা, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। কিছু মার্কিন কর্মকর্তা এ বিষয়ে সংশয়ও প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতির কারণেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে সামরিক পদক্ষেপ থেকে আপাতত সরে এসেছেন, যাতে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে না যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে ১৪টি ধারা রয়েছে এবং তা নিয়ে এখন দরকষাকষি চলছে। এতে যুদ্ধের অবসান ঘোষণা এবং পরবর্তী ৩০ দিনে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
আলোচনাটি ইসলামাবাদ বা জেনেভায় অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের বিধিনিষেধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ধাপে ধাপে শিথিল করা হতে পারে।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার মেয়াদ নিয়েই মূলত মতপার্থক্য রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের মতে, এই মেয়াদ ১২ থেকে ১৫ বছর হতে পারে, যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় থাকতে সম্মত হতে পারে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দ অর্থ ছাড় করার বিষয় বিবেচনা করবে।
তবে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি অনিশ্চিত থাকবে এবং আলোচনা ব্যর্থ হলে পুনরায় উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
Leave a comment