মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আলোচনার টেবিলে ছাড় দেওয়ার আহ্বান এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের হুমকির জবাবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনো বহিঃশক্তির চাপ বা হুমকি ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারবে না।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ধর্মীয় আদর্শের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, শিয়া মতাদর্শে বিশ্বাসী জনগণকে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দমন করা অসম্ভব। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা ও যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এই অঞ্চল থেকে সামরিক হুমকি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। এই বিষয়ে তিনি ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও উচ্চপর্যায়ের আলোচনা করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তজনা নিরসনের পথে বর্তমানে প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে কৌশলগতভাবে হরমুজ প্রণালি। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই জলপথের জন্য একটি নতুন নিরাপত্তা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। তেহরানের দাবি, এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ রুখে দেওয়া। ইরানের এই কঠোর অবস্থান ও সামরিক কৌশল ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনার গতিকে বারবার চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
টানটান উত্তেজনার মধ্যেই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার উদ্দেশ্যে গৃহীত মার্কিন সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, তেহরানের সঙ্গে একটি কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছানোর পথ প্রশস্ত করতেই এই কৌশলগত বিরতি দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে সামরিক শক্তি প্রদর্শন এবং কূটনৈতিক দরকষাকষির এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে ইরান তার সার্বভৌমত্ব ও আদর্শের প্রশ্নে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে তেহরানকে চুক্তিতে সই করাতে মরিয়া। ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিতের ঘোষণায় যুদ্ধের দামামা কিছুটা স্তিমিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলেও, হরমুজ প্রণালির নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত এখনও কাটেনি।
Leave a comment