সুনামগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ মোট ৬ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (৪ মে) দুপুরে ছাতক উপজেলার জালালপুর এলাকায় এবং সকালে দিরাই-মদনপুর সড়কে এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের ছাতক উপজেলার জালালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ‘রিফাত পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস হঠাৎ লেন পরিবর্তন করে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। বাসের প্রচণ্ড ধাক্কায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার যাত্রী তাহিরপুর উপজেলার তিওর জালাল গ্রামের বাসিন্দা ইউসুফ আলী এবং অজ্ঞাতনামা চালক নিহত হন। স্থানীয় জনতা ও ফায়ার সার্ভিস গুরুতর আহত আরও তিনজনকে উদ্ধার করে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। তবে সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইউসুফ আলীর দুই মেয়ে নিলুফা আক্তার (৩০), কেয়া মনি (১৭) এবং তাঁর ভাতিজি জামাই শাহাব উদ্দিনের মৃত্যু হয়।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি এবং সন্তানদের হারিয়ে ইউসুফ আলীর পরিবার এখন নিঃস্ব। স্বজনদের কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। দুর্ঘটনার পরপরই বাসের চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও পুলিশ বাসটি জব্দ করেছে।
একই দিন সকালে দিরাই-মদনপুর সড়কে বাসের চাপায় অপর এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। দ্রুতগামী বাসের নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ওই নারীর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ছাতকে সিএনজিচালকসহ পাঁচজন এবং দিরাইয়ে একজন নারী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে মামলা দায়েরের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাসড়কে অদক্ষ চালক এবং বাসের বেপরোয়া গতির কারণেই বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। যথাযথ তদারকি ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত না করলে এই মৃত্যুমিছিল থামানো কঠিন হয়ে পড়বে।
Leave a comment