Home আন্তর্জাতিক গাজা ধ্বংসস্তূপে আট হাজার মরদেহ, পুনর্গঠনে সাত বছর লাগতে পারে
আন্তর্জাতিকমধ্যপ্রাচ্য

গাজা ধ্বংসস্তূপে আট হাজার মরদেহ, পুনর্গঠনে সাত বছর লাগতে পারে

Share
Share

ইসরায়েলের টানা দুই বছরের সামরিক অভিযানে বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় এখনো অন্তত আট হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ কংক্রিট ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি) এক কর্মকর্তার বরাতে ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, গাজার মোট ধ্বংসাবশেষের মাত্র এক শতাংশেরও কম এখন পর্যন্ত সরানো সম্ভব হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মরদেহগুলোর কারণে বহু পরিবার এখনও স্বজনদের দাফন সম্পন্ন করতে পারেনি। গাজার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারী যন্ত্রপাতির ঘাটতি এবং নিরাপত্তাজনিত সীমাবদ্ধতার কারণে উদ্ধার ও পরিষ্কার কার্যক্রম অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বর্তমান গতিতে কাজ চললে পুরো গাজা পরিষ্কার করতে অন্তত সাত বছর সময় লাগতে পারে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়নি। যুদ্ধবিরতির পর থেকে নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮২৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং দুই হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। দীর্ঘ দুই বছরের সংঘাতে মোট নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়িয়েছে, আহত হয়েছেন প্রায় এক লাখ ৭২ হাজার মানুষ।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, উপত্যকাটির পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে।

এদিকে গাজা অভিমুখী মানবিক ত্রাণবহর ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বহর থেকে আটক দুই বিদেশি অ্যাক্টিভিস্টকে ইসরায়েলের আদালতে হাজির করা হয়েছে। স্পেনের সাইফ আবু কেশেক ও ব্রাজিলের থিয়াগো আভিলাকে আশকেলন আদালতে তোলা হয় বলে জানা গেছে। তাদের আইনজীবী সংগঠন আদালাহ জানিয়েছে, ইসরায়েল চার দিনের জন্য আটকাদেশ বাড়ানোর আবেদন করেছে। তবে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা হামাস-সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ভূমধ্যসাগর থেকে গাজা অভিমুখী প্রায় ৫০টির বেশি নৌযানের এই বহরটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি বাহিনী থামিয়ে দেয়। আটক দুই কর্মী অভিযোগ করেছেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদের আগে মারধর ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। ইসরায়েল অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

অন্যদিকে পশ্চিম তীরেও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজা ও অধিকৃত অঞ্চলে শিক্ষাখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যেখানে হাজারো শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন এবং শতকরা ৯০ ভাগের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউনিসেফ বলছে, এ পরিস্থিতি শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে গভীর সংকট তৈরি করছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

নিহত অপ্রতিমের মা-বাবাকে বিভিন্ন নম্বর থেকে কল দিয়ে চরম হয়রানি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর এবার তার শোকসন্তপ্ত মা-বাবাকে নানা নম্বর থেকে ফোন করে অশ্রাব্য...

১০ টাকার লোভে পরিত্যক্ত পুকুরে ঝাঁপ: শিশুর মৃত্যু, টিকটকার হাকিম গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের ফুলপুরে টিকটক ভিডিও ধারণের জন্য মাত্র ১০ টাকার প্রলোভনে পরিত্যক্ত পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে গুরুতর আহত হওয়া সাত বছরের শিশু সৌরভ ক্ষত্রিয়ের মর্মান্তিক...

Related Articles

সব ঘাঁটি গুটিয়ে দীর্ঘ দুই দশক পর ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী

ইরাক থেকে নিজেদের সমস্ত সামরিক ঘাঁটি গুটিয়ে নিয়ে দীর্ঘ দুই দশকের ঐতিহাসিক...

মরক্কোর ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ফাতিমা জাহরা এল মানসুরি

উত্তর আফ্রিকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মরক্কোর ইতিহাসে ঘটে গেল এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।...

এবার জেন-জির বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স: আটক ৪৪০, শিক্ষক-পুলিশসহ বহু আহত

ফ্রান্সে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শ্রেণিকক্ষে চরম জায়গা সংকট এবং তীব্র শিক্ষকস্বল্পতাসহ শিক্ষা খাতের...

যুক্তরাষ্ট্রের সামনে পরাজয় স্বীকার করে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার বিকল্প নেই’: আইআরজিসি কমান্ডার

মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান ভূরাজনৈতিক সংকট ও সামরিক উত্তেজনার আবহেই যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি...

;