ইসরায়েলের টানা দুই বছরের সামরিক অভিযানে বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় এখনো অন্তত আট হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ কংক্রিট ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি) এক কর্মকর্তার বরাতে ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, গাজার মোট ধ্বংসাবশেষের মাত্র এক শতাংশেরও কম এখন পর্যন্ত সরানো সম্ভব হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মরদেহগুলোর কারণে বহু পরিবার এখনও স্বজনদের দাফন সম্পন্ন করতে পারেনি। গাজার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারী যন্ত্রপাতির ঘাটতি এবং নিরাপত্তাজনিত সীমাবদ্ধতার কারণে উদ্ধার ও পরিষ্কার কার্যক্রম অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বর্তমান গতিতে কাজ চললে পুরো গাজা পরিষ্কার করতে অন্তত সাত বছর সময় লাগতে পারে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়নি। যুদ্ধবিরতির পর থেকে নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮২৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং দুই হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। দীর্ঘ দুই বছরের সংঘাতে মোট নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়িয়েছে, আহত হয়েছেন প্রায় এক লাখ ৭২ হাজার মানুষ।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, উপত্যকাটির পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে গাজা অভিমুখী মানবিক ত্রাণবহর ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বহর থেকে আটক দুই বিদেশি অ্যাক্টিভিস্টকে ইসরায়েলের আদালতে হাজির করা হয়েছে। স্পেনের সাইফ আবু কেশেক ও ব্রাজিলের থিয়াগো আভিলাকে আশকেলন আদালতে তোলা হয় বলে জানা গেছে। তাদের আইনজীবী সংগঠন আদালাহ জানিয়েছে, ইসরায়েল চার দিনের জন্য আটকাদেশ বাড়ানোর আবেদন করেছে। তবে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা হামাস-সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ভূমধ্যসাগর থেকে গাজা অভিমুখী প্রায় ৫০টির বেশি নৌযানের এই বহরটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি বাহিনী থামিয়ে দেয়। আটক দুই কর্মী অভিযোগ করেছেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদের আগে মারধর ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। ইসরায়েল অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে পশ্চিম তীরেও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজা ও অধিকৃত অঞ্চলে শিক্ষাখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যেখানে হাজারো শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন এবং শতকরা ৯০ ভাগের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউনিসেফ বলছে, এ পরিস্থিতি শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে গভীর সংকট তৈরি করছে।
Leave a comment