যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত অর্থদাতা ও দণ্ডিত শিশু যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের হাতে লেখা একটি কথিত ‘আত্মহত্যার চিরকুট’ খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছেন তাঁর সাবেক কারাসঙ্গী নিকোলাস টার্টাগ্লিওনে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্রায় সাত বছর ধরে নোটটি একটি সিল করা আইনি নথির মধ্যে লুকানো ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালের আগস্টে কারাগারে মৃত্যুর ঠিক আগে এই চিরকুটটি লেখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। টার্টাগ্লিওনে জানান, হলুদ রঙের আইনি প্যাডে লেখা নোটটি একটি বইয়ের ভেতরে ভাঁজ করে রাখা ছিল এবং ২০১৯ সালের জুলাই মাসে তিনি এটি খুঁজে পান।
জানা গেছে, এপস্টেইন প্রথমবার আত্মহত্যার চেষ্টা করার কয়েক দিন পর নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনের কারাগারে তাদের সেলে থাকা একটি চিত্রধর্মী উপন্যাসের ভেতরে নোটটি পাওয়া যায়। এর প্রায় দুই সপ্তাহ পরই তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কারা ব্যুরোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২৩ জুলাই এপস্টেইনকে তার সেলে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি মেঝেতে পড়ে ছিলেন এবং তখনও শ্বাস নিচ্ছিলেন। পরবর্তীতে তার গলায় লালচে দাগ ও ঘর্ষণের চিহ্ন পাওয়া যায়।
টার্টাগ্লিওনে দাবি করেন, নোটটিতে লেখা ছিল— এফবিআই দীর্ঘদিন তদন্ত করেও কিছু খুঁজে পায়নি—এমন ইঙ্গিতপূর্ণ বাক্য এবং একটি হাসির চিহ্নসহ ‘বিদায় জানানোর সময় হয়েছে’ ধরনের বার্তা। তবে এই নোটের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
তিনি আরও জানান, নিজের নিরাপত্তার আশঙ্কায় কারা কর্তৃপক্ষকে না দিয়ে নোটটি সরাসরি আইনজীবীদের কাছে তুলে দেন। পরবর্তীতে তার আইনজীবীরা নোটটির সত্যতা যাচাইয়ের দাবি করলেও কীভাবে তা করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতের নির্দেশে নোটটি সিলগালা অবস্থায় রয়েছে এবং এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। মার্কিন বিচার বিভাগ বা তদন্তকারী সংস্থাগুলোর কাছেও এটি আনুষ্ঠানিকভাবে জমা পড়েনি।
এদিকে নিউইয়র্ক টাইমস আদালতের কাছে নোটটি প্রকাশের আবেদন জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি টার্টাগ্লিওনের মামলার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হলেও এপস্টেইনের মৃত্যুর প্রকৃতি ও শেষ সময়ের মানসিক অবস্থা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে।
উল্লেখ্য, ম্যানহাটন কারাগারে এপস্টেইনের মৃত্যু নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে। নিরাপত্তা ত্রুটি, নজরদারির ঘাটতি এবং তার শরীরে পাওয়া চিহ্ন নিয়ে বহু জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই রহস্যময় চিরকুটটি প্রকাশ পেলে তার মৃত্যুকে ঘিরে থাকা বিতর্কে নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে।
Leave a comment