সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আন্না মিনজের প্রার্থিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর অব প্রোগ্রামস পদে থাকাকালীন তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, যদিও নির্বাচন কমিশন (ইসি) তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, বিদেশি অনুদাননির্ভর প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পদে থাকা ব্যক্তিরা সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। আইন অনুযায়ী, পদত্যাগ বা অবসর গ্রহণের পর তিন বছর না পার হলে এ ধরনের প্রার্থিতা অযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারে। তবে আন্না মিনজ দাবি করেছেন, তিনি ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন এবং তিনি ব্র্যাকের প্রধান নির্বাহী ছিলেন না। তার ভাষায়, আরপিওতে শুধু প্রধান নির্বাহীদের ক্ষেত্রে বাধা রয়েছে, পরিচালক পর্যায়ের পদে সেই বিধান প্রযোজ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, সিনিয়র ডিরেক্টর পদটি মূলত বেতনভুক্ত চাকরি এবং এটি নির্বাহী পরিচালকের অধীনে কাজ করা একটি পদ। তবে ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইটে তাকে নেতৃত্ব পর্যায়ের টিমের সদস্য হিসেবে দেখানো হয়েছিল, যা পরে রোববার সন্ধ্যায় সরিয়ে ফেলা হয়। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে তিনি পদত্যাগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
হলফনামায় আন্না মিনজ তার পেশা হিসেবে ‘বেসরকারি চাকরিজীবী’ উল্লেখ করলেও ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর পদটির উল্লেখ করেননি। সেখানে তিনি ঘোষণা দেন, তিনি আরপিওর ১২ ধারা অনুযায়ী অযোগ্য নন।
এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মঈন উদ্দীন খান বলেন, প্রার্থীর হলফনামা যাচাই করেই মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক পদে তার ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে নথিপত্র পর্যালোচনা করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া বলেন, কোনো পরিচালক যদি নীতিনির্ধারণী ও সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন, তবে তা নির্বাহী পদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে শুধুমাত্র বোর্ড সদস্য হিসেবে সীমিত ভূমিকা থাকলে সেটি নির্বাহী পদ নয়। ফলে আন্না মিনজের পদটির প্রকৃত অবস্থান আইনি ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করছে।
Leave a comment