প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়ে বাংলাদেশে পরবর্তী ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে প্রবীণ রাজনীতিবীদ দিনেশ ত্রিবেদীকে মনোনীত করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে কোনো পেশাদার কূটনীতিকের বদলে একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
বিজেপির জাতীয় তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান অমিত মালব্য গত রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্সে’ (সাবেক টুইটার) দিনেশ ত্রিবেদীকে অভিনন্দন জানিয়ে এই নিয়োগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। তিনি লিখেছেন, “বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও ব্যারাকপুরের সংসদ সদস্য শ্রী দিনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হওয়ায় অভিনন্দন।” ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও, দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো একে চূড়ান্ত বলেই মনে করছে।
দিনেশ ত্রিবেদী হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশে ভারতের প্রথম রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত দূত। বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দিতে যাচ্ছেন। সাধারণত এই পদগুলোতে ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস (IFS) কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হলেও, এবার একজন ৭৫ বছর বয়সী প্রবীণ রাজনীতিককে পাঠানোর সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ‘ব্যুরোক্রেটিক ডিপ্লোম্যাসি’র চেয়ে ‘পলিটিক্যাল ডিপ্লোম্যাসি’ বা রাজনৈতিক সংলাপকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সাউথ ব্লক।
এই নিয়োগ কার্যকর করতে হলে ঢাকা থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের আনুষ্ঠানিক সম্মতির (Agrément) প্রয়োজন হবে। গত ২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের যে টানাপড়েন চলছে, তা পুনর্গঠনে দিনেশ ত্রিবেদীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
পেশাগত জীবনে একজন প্রশিক্ষিত পাইলট এবং সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের ছাত্র দিনেশ ত্রিবেদী ভারতের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা ও ব্যারাকপুরের সংসদ সদস্য ছিলেন। তবে ২০২১ সালে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন। আরআইটি (RTI) আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
এর আগে সাবেক গভর্নর আরিফ মোহাম্মদ খানের নাম আলোচনায় আসলেও শেষ পর্যন্ত দিনেশ ত্রিবেদীকেই বেছে নিয়েছে দিল্লি।
Leave a comment