গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে অবমাননাকর ও উসকানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে আইনি গ্যাঁড়াকলে পড়েছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতা আমির হামজা। আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তার বিরুদ্ধে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, এর আগে আদালত আমির হামজাকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছিলেন। তবে নির্ধারিত তারিখ (২১ এপ্রিল) অতিবাহিত হলেও তিনি আদালতে উপস্থিত হননি। আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী কৌঁসুলি নাসির উদ্দিন জানান, বিবাদী আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বিচারক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন।
গত ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানিয়ে একটি বক্তব্য প্রদান করেন। সেই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে আমির হামজা তাকে ‘নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’ বলে অভিহিত করেন।
বাদীর দাবি, মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন গর্হিত ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ধর্মীয় উসকানি এবং চরম মানহানির শামিল। এই ঘটনায় দণ্ডবিধির ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় মামলাটি করা হয়।
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর সংসদ সদস্য আমির হামজার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। আদালতের নির্দেশ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি কেবল বলেন, “জানি না ওসব।”
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে পাল্টাপাল্টি এই অবস্থানে সিরাজগঞ্জ ও কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা এই গ্রেফতারি পরোয়ানাকে স্বাগত জানালেও জামায়াতপন্থি শিবিরে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a comment