দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত সামরিক অভিযান ও তীব্র বিমান হামলার কারণে দেশটিতে নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলমান এই সংঘাতের ফলে এ পর্যন্ত লেবাননের প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, এই বিশাল জনসংখ্যার মধ্যে ৩ লাখ ৯০ হাজারেরও বেশি শিশু রয়েছে, যারা যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে পরিবারসহ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার বরাতে এই হৃদয়বিদারক চিত্র তুলে ধরে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাস্তুচ্যুত শিশুদের একটি বড় অংশ এখন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তবে এই অন্ধকারের মাঝেও আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছেন একদল স্বেচ্ছাসেবক।
মঙ্গলবার দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক টায়ার শহরের একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে আশ্রয় নেওয়া শত শত শিশু যুদ্ধের আতঙ্ক ভুলে সাময়িকভাবে বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নেয়। স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় শিশুদের মানসিক ট্রমা কাটিয়ে উঠতে চিত্রাঙ্কন, খেলাধুলা ও প্রাথমিক পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়।
ইউনিসেফ (UNICEF) তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, লেবাননের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এখন অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝাতে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে, দেশটির কয়েকশ পাবলিক স্কুল ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বর্তমানে শরণার্থী শিবির হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে প্রায় ২ লাখ ৫৬ হাজার শিক্ষার্থীর নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবানন ও বেকা উপত্যকার বিশাল এলাকা এখন জনশূন্য প্রান্তরে পরিণত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে এই শিশুরা কেবল তাদের ঘরবাড়িই হারায়নি, বরং তারা তাদের মৌলিক অধিকার—শিক্ষা ও সুন্দর শৈশব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যুদ্ধের এই ভয়াবহ মানসিক ট্রমা শিশুদের দীর্ঘমেয়াদী বিকাশে বাধা সৃষ্টি করবে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে বলছে, এই নিরপরাধ শিশুদের জীবন রক্ষা করতে হলে কূটনীতির কোনো বিকল্প নেই।
Leave a comment