মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া আল্টিমেটাম, অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে অঞ্চলটিকে ‘দোজখ’ বা নরকে পরিণত করার হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ সংঘাতের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের একজন মুখপাত্র সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যদি যুদ্ধের বিস্তার ঘটানো হয় তবে তার ফলাফল হবে বিপর্যয়কর। মুখপাত্রের ভাষায়, “যদি আগ্রাসন বৃদ্ধি পায়, তবে পুরো অঞ্চল আপনাদের জন্য দোজখে পরিণত হবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ইরানকে পরাজিত করার যে স্বপ্ন পশ্চিমারা দেখছে, তা মূলত একটি ‘জলাভূমি’ যেখানে তারা নিজেরাই তলিয়ে যাবে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার অনমনীয় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য তিনি ইরানকে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “মনে আছে, আমি ইরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে অথবা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ১০ দিনের সময় দিয়েছিলাম? সময় শেষ হয়ে আসছে। এখন হাতে আছে মাত্র ৪৮ ঘণ্টা, এরপরই তাদের ওপর নরক নেমে আসবে।”
ট্রাম্পের এই ‘নরক’ নামিয়ে আনার হুমকি মূলত ইরানের জ্বালানি বা সামরিক অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য যে, বিশ্ব তেলের বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। ইরান এটি বন্ধ রাখলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। কূটনৈতিক আলোচনার পথ যখন ক্রমশ সরু হয়ে আসছে, তখন সামরিক হুমকি বিশ্ব বাজারে তেলের দাম এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
Leave a comment