ফিনল্যান্ড, যা বিশ্বের সুখ সূচকে দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষে ছিল, বর্তমানে গভীর বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে দেশটিতে বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে ১০.৬ শতাংশে। একই সময়ে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ কর্মহীন ছিলেন। এর ফলে ফিনল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে বেকারত্বের শীর্ষে উঠে এসেছে। এর আগে দীর্ঘদিন ধরে এই শীর্ষে ছিল স্পেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ফিনল্যান্ডের এই পরিস্থিতি সাময়িক ওঠানামা নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিফলন। ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলের দেশ যেমন স্পেন ও গ্রিস গত এক দশকে বেকারত্ব হ্রাস করতে সক্ষম হয়েছে, অথচ ফিনল্যান্ড ও প্রতিবেশী সুইডেনে বেকারত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং শ্রমবাজারে নতুন চাকরির সীমিত সুযোগ এই বেকারত্ব বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
ফিনল্যান্ডে শিল্প উৎপাদন ও নির্মাণ খাত স্থবির থাকায় নতুন চাকরির সুযোগ কমেছে। প্রযুক্তি, পরিষেবা ও নির্মাণ খাতে চাকরির অভাব দেশীয় নাগরিক এবং অভিবাসী উভয়কে বেকারত্বের ঝুঁকিতে ফেলেছে। পাশাপাশি সরকারের কিছু কঠোর অভিবাসন ও কল্যাণনীতি অভিবাসীদের জীবনে চাপ বৃদ্ধি করেছে।
অর্থনৈতিক চাপ ও বেকারত্ব বৃদ্ধির মধ্যেও ফিনল্যান্ডের অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আশার কথা বলছে। তারা জানিয়েছে, গত এক বছরে মোট কর্মসংস্থান প্রায় ২৫ হাজার বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সবুজ জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি খাতে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের মতে, চলমান সংস্কার ও বিনিয়োগের ফলে আগামী বছর শ্রমবাজার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি পাবে।
যদিও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে, ফিনল্যান্ড এখনো বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ হিসেবে পরিচিত। শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় সরকারি বিনিয়োগ এবং জীবনযাত্রার ভারসাম্য নাগরিকদের মানসিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সহায়তা করছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ বেকারত্ব অব্যাহত থাকলে দেশের সুখ সূচকেও প্রভাব পড়তে পারে।
Leave a comment