মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে নেহা নদী পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।
মন্ত্রী বলেন, “আমাদের সামনে খুব ভালো সময় নেই, বরং একটি কঠিন সময় আসছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আমাদের অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি করছে। এর ফলে সামনে তেলের দাম ও জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতি আমাদের ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।”
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেলের সংকটের জেরে পেট্রোল পাম্পে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার বিষয়ে মন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, “যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহ কম থাকাটা স্বাভাবিক, কিন্তু পাম্প ভাঙচুর করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। আমরা ‘মব’ বা গণবিশৃঙ্খলা কঠোর হস্তে দমন করব। গায়ের জোরে আইনের বাইরে কাউকে কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না।”
কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সহমর্মিতা প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, “ঝড়-বৃষ্টিতে গম ও আলুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যা আমাদের কৃষকদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। তবে বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা কৃষি ঋণ মওকুফ করেছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকদের কল্যাণে নিরলস কাজ করছেন।” তিনি আরও জানান, সারাদেশে কয়েক কোটি নারীর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং ২০ হাজার খাল খননের মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, “দেশের ৯০ ভাগ মানুষ ধার্মিক এবং তারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা পছন্দ করে না। আমরা মানুষের কল্যাণে কাজ করতে এসেছি এবং কাজ করেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চাই। সৎ থাকা এবং হালাল রুজি উপার্জনের মাধ্যমেই প্রকৃত মুক্তি সম্ভব।”
অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেনসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
Leave a comment