ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত মোজতবা খামেনিকে ঘিরে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা ও রহস্য এখন চরমে। গত কয়েকদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মোজতবা খামেনির মৃত্যুর বিষয়ে জোরালো দাবি করে আসলেও, তার অবর্তমানেই পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ফার্সি নববর্ষ ‘নওরোজ’ উপলক্ষে একটি লিখিত বার্তা প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তবে এই বার্তা তার অস্তিত্বের প্রমাণ দেওয়ার পরিবর্তে জনমনে জল্পনা ও সংশয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রকাশিত লিখিত বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, “এ বছর আধ্যাত্মিকতার বসন্ত (ঈদুল ফিতর) এবং প্রকৃতির বসন্ত (নওরোজ) একই সময়ে এসেছে। আমি এই দ্বৈত উৎসবে দেশের প্রতিটি মানুষ ও বিশ্বের সকল মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।” বার্তায় তিনি গত জানুয়ারিতে ইরানে ঘটে যাওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে ‘চাপিয়ে দেওয়া অভ্যুত্থান’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন যে, অর্থনৈতিক সমস্যার দোহাই দিয়ে এই অস্থিরতা দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া তিনি আসন্ন বছরকে ‘জাতীয় ঐক্য ও নিরাপত্তার নিরিখে প্রতিরোধ অর্থনীতির বছর’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, ইরান সরকার মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে প্রচার করলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সাম্প্রতিক ভিডিও বার্তা বা জনসমক্ষে উপস্থিতি দেখা যায়নি। খোদ ওয়াশিংটন ও তেল আবিব দাবি করেছে যে, মোজতবা খামেনি ইতিপূর্বেই মৃত্যুবরণ করেছেন। এমন গুরুতর দাবির মুখে কেবল একটি ‘কাগুজে বিবৃতি’ প্রকাশ করায় কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা একে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ বা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি মোজতবা খামেনি জীবিত ও সুস্থ থাকতেন, তবে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে এবং আন্তর্জাতিক চাপের মুখে জাতির সামনে তার সশরীরে উপস্থিত হওয়া অপরিহার্য ছিল। তার দীর্ঘ রহস্যময় অনুপস্থিতি এবং শুধুমাত্র লিখিত বার্তার ওপর নির্ভরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরানের ক্ষমতার অলিন্দে কোনো বড় ধরনের রদবদল বা চরম নেতৃত্ব সংকট চলছে। এই অনিশ্চয়তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন কোনো অস্থিরতার ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
Leave a comment