পুরান ঢাকার কেরানীগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জিহাদ (১১) নামে এক কিশোরকে ‘হত্যা’ দেখিয়ে দায়ের করা মামলায় তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১২৪ জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। অব্যাহতি পাওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তদন্তে উঠে এসেছে, ভুক্তভোগী হিসেবে উল্লেখ করা জিহাদ আসলে জীবিত রয়েছে। ঘটনাস্থল ও ঘটনার বর্ণনায় একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে এবং হাজারীবাগে আহত হওয়ার ঘটনাকে কেরানীগঞ্জে ‘হত্যা’ হিসেবে উপস্থাপন করে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। এসব তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হওয়ায় আদালত অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে বিবেচনা করেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক বদিয়ার রহমানের জমা দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না এই আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা গত বছরের ১১ আগস্ট তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন এবং পরবর্তীতে আদালত তা পর্যালোচনা করে একই বছরের ৩০ নভেম্বর মামলাটি থেকে সকল আসামিকে অব্যাহতি দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার জিআরও আবদুল নূর।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মামলার এজাহার, চার্জশিট এবং ভুক্তভোগীর জবানবন্দি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এটি হত্যা মামলা হিসেবে দায়ের করা হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জীবিত রয়েছে এবং তিনি নিজেই আদালতে জখমপ্রাপ্ত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ প্রেক্ষিতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে সকল আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
Leave a comment