নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা হলো না সোহেল ফকিরের (২৫)। দুই লঞ্চের মাঝখানে পড়ে পিষ্ট হয়ে নিভে গেল সাভারের ট্যানারি শ্রমিকের প্রাণ। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার চানপুরা ইউনিয়নের চরখাককাটা গ্রামে জানাজা শেষে সোহেলের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
তবে সোহেলের দাফন হলেও তাঁর পরিবারের ওপর নেমে আসা শোকের ছায়া কাটছে না; কারণ তাঁর বাবা মিরাজ ফকির এখনও বুড়িগঙ্গায় নিখোঁজ এবং অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেশমা আক্তার রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
নিহত সোহেল এবং তাঁর বাবা মিরাজ ফকির সাভারের হেমায়েতপুরে একটি ট্যানারিতে কাজ করতেন। ঈদ বোনাস পেয়ে বুধবার বিকেলে সোহেল তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও বাবাকে নিয়ে মেহেন্দীগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। সদরঘাটে একটি ট্রলার থেকে ‘আসা-যাওয়া’ নামের একটি লঞ্চে ওঠার সময় ‘জাকির সম্রাট-৩’ নামের অপর একটি লঞ্চ চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই সোহেল নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ধাক্কার চোটে তাঁর বাবা মিরাজ ফকির নদীতে পড়ে তলিয়ে যান, যাঁর সন্ধান এখনও মেলেনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সোহেলের মরদেহ চরখাককাটা গ্রামে পৌঁছালে মা ও তিন বোনের আর্তচিৎকারে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। জোহরের নামাজের পর গ্রামের নূর মোহাম্মদ মৃধাবাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। উপার্জনক্ষম বাবা ও ভাইকে হারিয়ে এই ভূমিহীন পরিবারটি এখন সম্পূর্ণ দিশেহারা।
সোহেলের চাচা ফারুক ফকির জানান, ২০ বছর আগে মিরাজ ফকির জীবিকার সন্ধানে ঢাকা গিয়েছিলেন। তাঁর আয়েই বাড়িতে থাকা স্ত্রী ও তিন মেয়ের ভরণপোষণ চলত।
Leave a comment