নেত্রকোনায় সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন করে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী জানিয়েছেন, কৃষকরা যত পরিমাণ ধান দিতে পারবেন, সরকার ততটুকুই সংগ্রহ করবে। রোববার সন্ধ্যায় নেত্রকোনা পাবলিক হল মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
খাদ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে সরকার নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হয়েছে এবং নিম্ন আয়ের মানুষের সহায়তায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের জন্য ভাতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে খাল খনন, বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষি উৎপাদনের উপকরণ সহজলভ্য করা এবং উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং আয় বাড়াতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ দিতে আগামী জুলাই থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক ধরনের ইউনিফর্ম চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগের মতো নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এবার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষকরা যত ধান দিতে চাইবেন, তা সংগ্রহ করা হবে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ধান-চাল কেনার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ ও সিলেটসহ হাওড় অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কারণে চাল সংগ্রহের সময়সূচি এগিয়ে আনা হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, কৃষকদের সরাসরি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা হবে, যাতে কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী বা সিন্ডিকেটের সুযোগ না থাকে। কৃষকরা সরাসরি সংগ্রহকেন্দ্রে ধান দিতে পারবেন। তবে ধান সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট মাত্রার আর্দ্রতা বজায় রাখা জরুরি হওয়ায় কৃষকদের শুকনো ধান নিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
জেলা খাদ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে নেত্রকোনায় মোট ২০ হাজার ৪১৫ মেট্রিক টন ধান এবং ৫৫ হাজার ৫৮৫ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি কেজি ধানের মূল্য ৩৬ টাকা এবং চালের মূল্য ৪৯ টাকা ধরা হয়েছে। জেলার ১৩টি খাদ্যগুদামে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
Leave a comment