মো. আজিজুর রহমান, গোয়াইনঘাট | সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নে একটি সরকারি খাল খনন প্রকল্প চাঁদাবাজির অভিযোগে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করেছে, পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় একদল স্থানীয় ব্যক্তি কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কেন্দা খালে প্রায় ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার খননের জন্য ৭২ লাখ ৪৪ হাজার টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। কাজটি পায় ‘মেসার্স স্বপ্নীল এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চুক্তি অনুযায়ী কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের জুলাইয়ে এবং মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে।
ঠিকাদার আহমেদ হুসাইন তামিম অভিযোগ করেন, কাজ শুরু করতে গেলেই স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি দাবি প্রত্যাখ্যান করলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় এবং কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে তিনি আটজনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। আদালত প্রশাসনকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও বাস্তবে কোনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ৮ মার্চ গ্রামবাসীর উদ্যোগে খাল খননের কাজ আবার শুরু করা হয়। তবে দুই দিনের মধ্যেই পুনরায় হুমকি দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এলাকাবাসীর দাবি, খালটি খনন করা হলে কয়েকশ বিঘা কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে, যা স্থানীয় কৃষির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকৌশলী হাসিব আহামেদ বলেন, খাল খনন নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে বিরোধের কারণেই কাজ বন্ধ রয়েছে। চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার আদালতে গেছেন বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী জানান, চাঁদার কারণে কাজ বন্ধ থাকার বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছেন, তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে আগামী ২৩ মার্চ সকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর খাল খনন কাজ উদ্বোধনের কথা রয়েছে। এর আগে চলমান জটিলতার সমাধান হবে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
Leave a comment