বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত ‘হরমুজ প্রণালিকে’ ইরানের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করতে মার্কিন সামরিক শক্তি ব্যবহারের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, এই সংকটের সমাধান করতে যুক্তরাষ্ট্রের খুব বেশি সময়ের প্রয়োজন হবে না।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান, মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যে ইরানের উপকূলীয় অঞ্চল এবং জলসীমায় ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, “আমার বিশ্বাস, হরমুজ মুক্ত করতে খুব বেশি সময় লাগবে না। ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলো আমাদের পাশে না দাঁড়ালেও আমরা একাই এই অবরোধ গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম।”
এদিকে মঙ্গলবারই হরমুজ প্রণালির তীরবর্তী ইরানের কৌশলগত সামরিক স্থাপনাগুলোতে শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম)। সামরিক সূত্রমতে, এই অভিযানে ইরানের বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র (Missile Launch Sites) এবং রাডার ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মূলত আইআরজিসির সক্ষমতা কমিয়ে আনতেই এই লক্ষ্যভেদী হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
হরমুজ সংকট নিরসনে ওয়াশিংটন তার ইউরোপীয় এবং এশীয় মিত্রদের সেনা ও যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে এশিয় ও ইউরোপীয় শক্তিগুলো পিছু হটলেও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বেশ সুসংহত। ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এই সামরিক অভিযানে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মিত্রদের এই ভূমিকার প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এবং ইসরায়েল অসাধারণ সহযোগিতা করছে।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তাদের সাফ ঘোষণা—যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলি কোনো জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। গত ১৭ দিনে এই জলপথে অন্তত ১২টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র নিরাপত্তা সংকট তৈরি করেছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা ফিরে না এলে বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী স্থবিরতা নেমে আসতে পারে।
Leave a comment