ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের আম্বেদকর নগরে নিজ ঘর থেকে চার নাবালক শিশুর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। গত শনিবার (২ মে) দুপুরে মীরানপুর এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় শিশুদের মা গাসিয়া খাতুনকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যিনি ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে ঘরটির ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পুলিশে খবর দেওয়া হলে তারা এসে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। বিছানায় নিহত চার শিশু শফিক (১৪), সৌদ (১২), উমর (৮) ও বানু (৬)-এর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, শিশুদের মাথায় ইট দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সন্তানদের মৃত্যু নিশ্চিত করার পর ঘাতক মা গাসিয়া খাতুন বারান্দা থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যান।
জেলা পুলিশ সুপার প্রাচী সিং জানান, একটি ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে যে, শিশুদের বাবা নিয়াজ গত দেড় বছর ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। অভিযোগ রয়েছে, নিয়াজ প্রবাসে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন—যা নিয়ে গাসিয়া দীর্ঘ দিন ধরে চরম মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন।
অন্যদিকে, তদন্তকারীদের কাছে তথ্য এসেছে যে, গাসিয়ার সঙ্গে পাশের গ্রামের এক ব্যক্তির বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। ওই ব্যক্তি গাসিয়ার আগের সন্তানদের দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করায় চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে গাসিয়া এই পথ বেছে নিতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
ঘটনাটি পুরো এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ সুপার আরও জানান, পলাতক গাসিয়া খাতুনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। এটি মানসিক বিকৃতি নাকি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা গাসিয়াকে গ্রেপ্তারের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
Leave a comment