সিলেটের বিশ্বনাথ পৌর শহরের পুরান বাজারে হঠাৎ করেই নিত্যপণ্যের বাজার পরিদর্শনে যান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই তিনি বাজারে গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার দুপুরে। সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা থেকে সড়কপথে সিলেটে ফেরার পথে বিশ্বনাথ সদরে পৌঁছে বাজার দেখে গাড়ি থামানোর নির্দেশ দেন মন্ত্রী। এরপর গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি বাজারে প্রবেশ করেন তিনি।
প্রথমে তিনি বাজারের গলিতে বসে পেঁয়াজ, রসুন ও আদাসহ নিত্যপণ্য বিক্রি করা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। সাধারণ ক্রেতার মতোই তিনি পেঁয়াজের দাম জানতে চাইলে এক দোকানি জানান, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা। একইভাবে তিনি রসুনসহ অন্যান্য পণ্যের দামও জানতে চান।
পরে তিনি বাজারের ভেতরের কয়েকটি দোকান পরিদর্শন করেন। মা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি দোকানে ঢুকে বিভিন্ন কোম্পানির ভোজ্য তেলের দাম সম্পর্কে খোঁজ নেন। দোকানির কাছে ৫ লিটার সয়াবিন তেলের দাম জানতে চাইলে তিনি জানান, এর দাম ৯৫০ টাকা। এছাড়া এক লিটার ও দুই লিটার তেলের দামও জানতে চান মন্ত্রী।
প্রথমদিকে দোকানিরা তাকে চিনতে পারেননি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বাজারে উপস্থিত মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে।
জানা গেছে, প্রায় আধাঘণ্টা সময় ধরে তিনি বাজারের ২৫ থেকে ২৬টি দোকান ঘুরে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম যাচাই করেন। বেশিরভাগ দোকানেই পণ্যের দাম প্রায় একই ছিল।
এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলুসহ কয়েকজন নেতা।
সফরসঙ্গীরা জানান, এটি মন্ত্রীর পূর্বনির্ধারিত কোনো কর্মসূচি ছিল না। জগন্নাথপুর থেকে বিশ্বনাথে প্রবেশ করার পর রাস্তার পাশের বাজারে নিত্যপণ্য বিক্রি হতে দেখে তিনি হঠাৎ গাড়ি থামিয়ে বাজারে নেমে পড়েন।
বাজার পরিদর্শনকালে বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, দেশে পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং বাজারে কোনো সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই। নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি করার জন্যও তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রায় আধাঘণ্টা বাজার পরিদর্শন শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির পুনরায় গাড়িতে উঠে সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেন।
Leave a comment