প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে পর্তুগাল, পোল্যান্ড, মেক্সিকো ও মালদ্বীপে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া বাংলাদেশের চার রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে ঢাকায় ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (৯ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রত্যাহার হওয়া রাষ্ট্রদূতরা হলেন—পর্তুগালে নিযুক্ত এম মাহফুজুল হক, পোল্যান্ডে দায়িত্ব পালনকারী মো. ময়নুল ইসলাম, মেক্সিকোতে নিযুক্ত এম মুশফিকুল ফজল (আনসারী) এবং মালদ্বীপে দায়িত্ব পালনকারী মো. নাজমুল ইসলাম। তাদের দ্রুত ঢাকায় ফিরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে এই চার রাষ্ট্রদূতকে নিজ নিজ দায়িত্বস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদেরকে অতিসত্বর ঢাকায় এসে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
এই চারজন রাষ্ট্রদূতই সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চুক্তিভিত্তিকভাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। বিভিন্ন পেশাগত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে তাদেরকে বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
রাষ্ট্রদূত এম মাহফুজুল হক একজন সাবেক সচিব। দীর্ঘদিন সরকারি প্রশাসনে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কারণে তাকে পর্তুগালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে পোল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. ময়নুল ইসলাম। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমদিকে তাকে আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর বাহারুল আলমকে নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর ময়নুল ইসলামকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পোল্যান্ডে পাঠানো হয়।
মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন সাংবাদিক এম মুশফিকুল ফজল (আনসারী)। তিনি দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে সাংবাদিকতা করেছেন এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন।
বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে তিনি নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন তুলে আলোচনায় আসেন। পরবর্তীতে গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাকে মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
মালদ্বীপে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মো. নাজমুল ইসলাম। তিনি একজন একাডেমিক এবং তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। পরে অন্তর্বর্তী সরকার তাকে চুক্তিভিত্তিকভাবে মালদ্বীপে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়। দায়িত্ব পালনকালে তিনি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
এই চার রাষ্ট্রদূতের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকেও ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পেশাদার কূটনীতিক আবিদা ইসলামকে গত বছরের জানুয়ারিতে লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি ১৫তম ব্যাচের কূটনৈতিক কর্মকর্তা এবং যুক্তরাজ্যে আলোচিত হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিমের স্থলাভিষিক্ত হন।
তবে তার নিয়োগের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে আলোচনা ছিল। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের কিছু নেতাকর্মী তার নিয়োগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে আলোচনা উঠে আসে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কূটনৈতিক মিশনগুলোতে নতুন নিয়োগ বা দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকারের প্রশাসনিক পুনর্গঠন বা কূটনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে সময় সময় এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকে, যা দেশের পররাষ্ট্র নীতির অগ্রাধিকার ও কূটনৈতিক ব্যবস্থাপনায় নতুন সমন্বয় তৈরি করতে সহায়ক হতে পারে।
Leave a comment