ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যেই যুক্তরাজ্যে তীব্র জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে যে পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ রয়েছে, তা দিয়ে মাত্র দুই দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব।
দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল গ্যাস–এর প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, গত বছর যুক্তরাজ্যের গ্যাস মজুদ ছিল প্রায় ১৮ হাজার গিগাওয়াট ঘণ্টা (জিডব্লিউএইচ)। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৭০০ গিগাওয়াট ঘণ্টায়, যা দেশটির প্রায় দেড় দিনের চাহিদার সমান। একই পরিমাণ গ্যাস তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হিসেবেও সংরক্ষিত রয়েছে।
তুলনামূলকভাবে ইউরোপের অনেক দেশ জ্বালানি সরবরাহের অস্থিরতা মোকাবিলায় বেশি প্রস্তুত; তাদের কাছে কয়েক সপ্তাহের গ্যাস মজুদ রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের সীমিত মজুদের সুযোগ নিচ্ছেন জ্বালানি ব্যবসায়ীরা। ফলে দেশটি ইউরোপীয় প্রতিযোগীদের তুলনায় বেশি দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছে। বর্তমানে ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামে পাইকারি গ্যাস কিনছে যুক্তরাজ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্থিরতার অন্যতম কারণ হরমুজ প্রণালীর কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া। বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদন বন্ধ থাকায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
এরই মধ্যে ইরানি হামলার পর কাতার বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র রাস লাফান–এ উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।
কমোডিটি ডেটা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আর্গাস মিডিয়া–এর গ্যাস প্রাইসিং বিভাগের প্রধান নাতাশা ফিল্ডিং বলেন, ইউরোপের প্রায় যেকোনো জায়গার তুলনায় যুক্তরাজ্যে গ্যাসের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পর্যাপ্ত মজুদ না থাকায় আগামী দিনে বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের মুখে পড়তে পারে দেশটি।
Leave a comment