বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর সাম্প্রতিক একটি পদক্ষেপ। সংস্থাটি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য তলব করেছে।
সোমবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) বিএফআইইউর পক্ষ থেকে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আসিফ মাহমুদের নামে থাকা সব ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব, লেনদেন বিবরণী, হিসাব খোলার নথি, কেওয়াইসি (Know Your Customer) তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথিপত্র সংগ্রহ করে তিন কর্মদিবসের মধ্যে বিএফআইইউতে পাঠাতে হবে।
বিএফআইইউ সাধারণত অর্থপাচার, সন্দেহজনক লেনদেন, অবৈধ অর্থ প্রবাহ বা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক তথ্য চেয়ে থাকে। যদিও আসিফ মাহমুদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ বা তদন্তের কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবুও এ ধরনের পদক্ষেপ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন-পূর্ব সময়ে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নজরদারি সংস্থাগুলো সক্রিয় ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা করা অস্বাভাবিক নয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। ওই সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে তিনজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাঁদের একজন ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
প্রথমদিকে তিনি শ্রম মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল আলোচিত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ১০ ডিসেম্বর আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর থেকে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
Leave a comment