ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ জীবিত ও সুস্থ আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তার এক ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা। সম্প্রতি দেশজুড়ে সামরিক হামলার পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মাধ্যমে তার মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে রোববার (১ মার্চ) এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই
উপদেষ্টা জানান, তিনি সরাসরি আহমাদিনেজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। উপদেষ্টার ভাষ্য, “আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং নিরাপদ স্থানে রয়েছেন।”
উপদেষ্টা আরও জানান, শনিবার আহমাদিনেজাদের নিরাপত্তা কার্যক্রমে ব্যবহৃত একটি ভবনে হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় ইরানের বিশেষ বাহিনী আইআরজিসি-এর তিন সদস্য নিহত হন। তারা সাবেক প্রেসিডেন্টের দেহরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে আহমাদিনেজাদের নিজস্ব বাসভবন হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল না। উপদেষ্টার দাবি অনুযায়ী, আক্রান্ত ভবনটি তার বাসা থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে অবস্থিত এবং মূল বাসভবনটি সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে।
এই তথ্য সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া মৃত্যুর খবরকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও অনলাইন সূত্রে দাবি করা হয়েছিল, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় আহমাদিনেজাদ নিহত হয়েছেন। যদিও এ দাবির পক্ষে কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ ছিল না।
ইরানের সংশ্লিষ্ট মহল থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না এলেও উপদেষ্টার বক্তব্য পরিস্থিতি পরিষ্কার করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, আঞ্চলিক উত্তেজনার সময়ে তথ্যযুদ্ধ ও গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানজুড়ে সামরিক হামলা ও পাল্টা উত্তেজনার খবর সামনে এসেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের বিরোধ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে। বিশেষ করে এমন একজন নেতা, যিনি অতীতে ইরানের রাষ্ট্রীয় নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তাকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য,মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার শাসনামলে ইরানের পররাষ্ট্রনীতি, বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্যাপক আলোচিত ছিল।
রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়ার পরও তিনি দেশীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বক্তব্য ও অবস্থানের কারণে আলোচনায় এসেছেন।
Leave a comment