পহেলগাঁও হামলায় নিহত সমীর গুহের মৃত্যুর ১০ মাস পরও চাকরির নিশ্চয়তা পাননি তাঁর স্ত্রী শবরী গুহ। আর্থিক সাহায্য মিললেও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে কোন যোগাযোগ করা হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছে পরিবার।
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁও-এ জঙ্গি হামলায় নিহত হন কলকাতার বাসিন্দা সমীর গুহ। পরিবার নিয়ে বেড়াতে গিয়ে স্ত্রী ও নাবালিকা কন্যার সামনে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এই হামলায় মোট ২৬ জনের মৃত্যু হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, পর্যটকদের মধ্যে বেছে পুরুষদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল, যাতে পরিবারগুলো চরম বিপর্যয়ে পড়ে।
নিহতের স্ত্রী শবরী গুহ জানিয়েছেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা মিলেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১০ লক্ষ টাকা অনুদান দেয়, যা তিনি পেয়েছেন। তবে চাকরির জন্য করা আবেদন এখনও ঝুলে রয়েছে।
সমীর কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ছিলেন। তাঁর কলকাতার অফিসে সহানুভূতিভিত্তিক চাকরির আবেদন করেছেন শবরী। অফিস জানিয়েছে, আবেদন দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ১০ মাসেও কোনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।
শবরীর কথায়,“এটা তো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। আমাদের জীবনে সব কিছু বদলে গেল। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কেউ এক বারও খোঁজ নেয়নি।”
সমীরের পেনশন পেলেও স্থায়ী আয়ের অভাবে আর্থিক অনিশ্চয়তা কাটছে না। তাঁদের মেয়ে শুভাঙ্গী সম্প্রতি ১৮ বছরে পা দিয়েছেন এবং কলকাতার এক বেসরকারি কলেজে মনোবিজ্ঞানে স্নাতক স্তরে ভর্তি হয়েছেন। মেয়ের পড়াশোনায় কোনও খামতি রাখতে চান না শবরী।
পহেলগাঁও হামলার পর ভারতীয় সেনা ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পাকিস্তানে জঙ্গিঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। মে মাসে দুই দেশের মধ্যে চার দিন ধরে সশস্ত্র সংঘাতও হয়।
মহারাষ্ট্র সরকার নিহতদের পরিবারকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। পুণের বাসিন্দা নিহত সন্তোষ জগদালের কন্যা এখনও চাকরির জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যের দ্বারস্থ।
শবরী রাজ্য সরকারের কাছে চাকরির আবেদন করেননি; করেছেন স্বামীর দফতরে। কিন্তু ১০ মাস কেটে গেলেও কোনও নিশ্চিত বার্তা পাননি।
তিনি প্রশ্ন তুলছেন— “আদৌ কি চাকরিটা পাব? দেওয়ার হলে কি এত দিনে দিত না?” হতাশা থাকলেও আশা পুরোপুরি ছাড়েননি তিনি। একা হাতে মেয়েকে বড় করার স্বপ্ন নিয়েই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
পহেলগাঁওয়ের সেই ক্ষত এখনও তাজা। সরকারি চাকরির নিশ্চয়তা হয়তো কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিতে পারে— কিন্তু তার জন্য এখনও অপেক্ষায় বেহালার গুহ পরিবার।
Leave a comment