ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট হচ্ছে, এ কর্মসূচির সূচনা কোনো সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচারণার অংশ নয়। বরং ২০২৩ সালেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও সরকারি নথি অনুযায়ী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সার্বিক নির্দেশনায় এক কোটি উপকারভোগী পরিবারের মাঝে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ওই সময় সরকার ঘোষিত কর্মসূচির আওতায় পুরোনো ফ্যামিলি কার্ড বাতিল করে ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার মাধ্যমে টিসিবির পণ্য বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে মাঠপর্যায়ে এই স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেয় টিসিবি। প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য ভর্তুকিমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহজে সরবরাহ করা এবং উপকারভোগীদের একটি নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০২৬ সালের নির্বাচন সামনে রেখে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বললেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি নতুন কোনো ধারণা নয়। কারণ একই ধরনের ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প ইতোমধ্যেই ২০২৩ সালে তৎকালীন সরকার শুরু করে এবং বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে দিলেও প্রকল্পটির সূচনা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত যে তাঁর সরকারের সময়েই নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে সরকারি নথিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পকে নতুন করে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও এর মূল ধারণা ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ পূর্ববর্তী সরকারের সময়েই গ্রহণ করা হয়েছিল, যা দেশের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির একটি ধারাবাহিক অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a comment