মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বরত দুই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে আটক করেছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে জেলা সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় ঘটনাটি ঘটে । ভুক্তভোগী ওই নারী বর্তমানে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই রাতেই অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্য—শাহাদাৎ হোসেন ও আবু সাঈদ—কে আটক করা হয়। পরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম সোমবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগী নারীর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তার সঙ্গে কথা বলেন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর স্বামীর বর্ণনা অনুযায়ী, রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে ভুক্তভোগী নারী ও তার স্বামী একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে নারায়ণগঞ্জ থেকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা এলাকায় নানাবাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ভ্যানের ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যায়। নিরাপত্তার কথা ভেবে তারা কাছের সদর হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেন।
এ সময় হাসপাতালের গেটে দায়িত্বরত আনসার সদস্য শাহাদাৎ হোসেন ও আবু সাঈদ তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা স্বামীকে হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচতলায় রেখে স্ত্রীকে দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যান। সেখানে ভয়ভীতি ও প্রভাব খাটিয়ে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করা হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী নিচে নেমে তার স্বামীকে সবকিছু জানান। এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় তারা সদর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে দায়িত্বরত সব আনসার সদস্যকে ডেকে আনে। ভুক্তভোগী নারী সরাসরি অভিযুক্ত দুইজনকে শনাক্ত করেন। এরপর তাদের আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন,“ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে দুই আনসার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর যথাযথ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।”
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে দায়িত্বরত সব আনসার সদস্যকে ডেকে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের আটক করে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং তার শারীরিক পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
Leave a comment