যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের পূর্বাঞ্চলে এক রাতের ধারাবাহিক বন্দুক হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) আলাবামা সীমান্তসংলগ্ন ক্লে কাউন্টিতে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত করেছে। হামলার পরদিন শনিবার একজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ।
ক্লে কাউন্টির শেরিফ এডি স্কট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ওয়েস্ট পয়েন্ট শহর ও তার আশপাশের এলাকায় সহিংসতার ফলে “অনেক নিরীহ মানুষের জীবন চিরতরে হারিয়ে গেছে।” শেরিফ স্কট বলেন, ঘটনাগুলো ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক ।
স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ডব্লিউটিভিএ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানান, তিনটি পৃথক স্থানে চালানো গোলাগুলির ফলে মোট ছয়জন প্রাণ হারান। এই তিনটি স্থান একে অপরের কাছাকাছি হলেও ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় অবস্থিত ছিল, যা তদন্তকারীদের কাছে ঘটনাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ঘটনার পরপরই ক্লে কাউন্টি শেরিফ দপ্তর, স্থানীয় পুলিশ এবং অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। বিভিন্ন এলাকা ঘিরে রেখে আলামত সংগ্রহ করা হয় এবং আশপাশের বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স শেরিফ এডি স্কট ও ক্লে কাউন্টি শেরিফ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত মন্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে একজন সন্দেহভাজন বর্তমানে হেফাজতে রয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হবে কি না, তা নির্ভর করবে প্রমাণ ও জিজ্ঞাসাবাদের ফলাফলের ওপর।
উত্তর-পূর্ব মিসিসিপিতে অবস্থিত ক্লে কাউন্টির জনসংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। সাধারণত শান্ত ও কম অপরাধপ্রবণ এই এলাকায় হঠাৎ করে এমন ভয়াবহ সহিংসতা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
ওয়েস্ট পয়েন্ট শহরের অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তারা রাতে গুলির শব্দ শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং কেউ কেউ ঘর থেকে বের হওয়ার সাহসও পাননি। পরদিন সকালে খবরটি নিশ্চিত হওয়ার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এটি শুধু একটি অপরাধ নয়, আমাদের পুরো সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত। যারা মারা গেছেন, তারা আমাদেরই মানুষ।”
ঘটনার পর স্থানীয় গির্জা ও কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে শোকসভা ও প্রার্থনার আয়োজন করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তার জন্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোও এগিয়ে এসেছে।
ওয়াশিংটন পোস্টসহ একাধিক জাতীয় গণমাধ্যম এই ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে ছোট ও গ্রামীণ এলাকাগুলোতেও এ ধরনের প্রাণঘাতী হামলা ঘটতে থাকায় দেশজুড়ে আবারও বন্দুক সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট
Leave a comment