Home জাতীয় প্রতীক বরাদ্দের আগে সব ধরনের নির্বাচনি প্রচার নিষিদ্ধ ঘোষণা ইসির
জাতীয়

প্রতীক বরাদ্দের আগে সব ধরনের নির্বাচনি প্রচার নিষিদ্ধ ঘোষণা ইসির

Share
Share

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতীক বরাদ্দের আগে সব ধরনের নির্বাচনি প্রচারণা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তাদের পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানায় নির্বাচন কমিশন। ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিকের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতীক বরাদ্দের আগ পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচারের নামে যেকোনো কার্যক্রম নির্বাচন আইন ও আচরণ বিধিমালার লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পরই কেবল নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আচরণ বিধিমালা অনুসরণ করে প্রচারণা চালাতে পারবেন প্রার্থীরা। এ ক্ষেত্রে কমিশনের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, রাজনৈতিক দল এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এর পর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার শুরু করা যাবে। তবে কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, পোস্টার, ব্যানার, লিফলেট বিতরণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা বা ভোট চাইতে সংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রম আইনসম্মত নয়।

ইসি জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত রয়েছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। সে অনুযায়ী, নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা অনুসারে ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে—অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে সব ধরনের নির্বাচনি প্রচারণা বন্ধ করতে হবে। এই ‘কুলিং-অফ পিরিয়ডে’ কোনো প্রার্থী বা দল প্রচার চালাতে পারবে না।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রচারণা নিষিদ্ধ রাখার মূল উদ্দেশ্য হলো নির্বাচনে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ন্যায়সঙ্গত রাখা। এতে করে প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের আগে প্রভাব বিস্তার বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের সুযোগ পাবেন না।

ইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রচার শুরু হলে আচরণ বিধিমালা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে কমিশন শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, কোনো দল বা প্রার্থী এই নির্দেশনা অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রচারণা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তারা মনে করছেন, সময়ের আগে প্রচারণা বন্ধ থাকলে অর্থের অপব্যবহার, প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার এবং আগাম প্রচারের অভিযোগ অনেকাংশে কমে আসবে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

পিলখানা হত্যাকাণ্ড- শহীদদের কবর জিয়ারতে জামায়াত আমীর

রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত সেনা সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তিনি...

পিলখানা ট্র্যাজেডি- শহীদদের শ্রদ্ধা জানালেন স্বজনরা

পিলখানা ট্র্যাজেডির শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্বজনেরা। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার বনানী সামরিক কবরস্থান-এ ফুল দিয়ে শহীদদের স্মরণ...

Related Articles

নরসিংদীতে তরুণীকে প্রথমবার ধর্ষণের পর, টাকায় সমঝোতা করতে চেয়েছিলেন বিএনপি নেতা

নরসিংদীর মাধবদীতে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী আমেনা আক্তারকে অপহরণের পর হত্যা মামলায়...

পবিত্র রমজানে জুমার মহিমা

পবিত্র মাহে রমজান মুসলিম উম্মাহর জন্য আত্মশুদ্ধি, সংযম ও তাকওয়া অর্জনের মাস।...

ড. আহসান এইচ মনসুরের বিদায়: ফাহাম সালামের তীব্র প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের সংকটকালীন সময়ে অসামান্য অবদান রাখার পর ড....

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতেই উঠছেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা ও সচিবালয়ে যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় রাজধানীর হেয়ার রোডে অবস্থিত রাষ্ট্রীয়...